ইকোপার্কে প্রাতভ্রমণে বেরিয়ে শনিবার একাধিক রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “পার্টি যা বলবে সেটাই সর্বোপরি। যাঁরা নীতি নির্ধারক, তাঁরাই পরামর্শ দেবেন। দলের স্ট্র্যাটেজি বা পরিকল্পনা নিয়ে কে মুখ খুলবে, সেটা আগেই ঠিক করা থাকে।”
advertisement
শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ূন কবির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি কারও নাম করে কিছু বলিনি। কোনওদিন বলব না। পার্টি যেটা ঠিক করবে, সেটাই হবে।” হুমায়ূন কবিরের মন্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, “অনেকের দিলীপ ঘোষকে অন্যরকম মনে হতে পারে। যার যেমন মনে হয়।”
কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি জানান, সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে এই বিষয় নিয়ে বৈঠক রয়েছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা বারবার দাবি করেছি যাতে বুথের ভিতরে বাহিনী থাকে। ওরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। ভোট লুঠ হয় বুথের ভিতরে। আমাদের সামনেই এই ঘটনা বহুবার ঘটেছে।” তাঁর দাবি, “বুথের ভিতরে বাহিনী থাকলেই মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলেই তৃণমূলের টেকা মুশকিল হবে।”
বাহিনী বাড়লে বিজেপির ভোট বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাহিনী যথেষ্ট সংখ্যায় আসে। পঞ্চায়েত ভোটেও পর্যাপ্ত বাহিনী ছিল। কিন্তু ভোট হচ্ছে বুথে, আর বাহিনী বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার—আই কার্ড ছাড়া কাউকে বুথে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। বুথে কী হচ্ছে, সেটাও বাহিনী দেখবে। তাহলেই নিরপেক্ষ ভোটাধিকার সম্ভব।”
ঘর ছাড়ার সময় আবেগ কাজ করেছিল কি না, সেই প্রশ্নে তাঁর মন্তব্য, “একটা সময় মানুষকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হয়। ওটা তো একটা ঘর। কত লোক পার্টি ছেড়ে চলে যায়। এগুলো চলতেই থাকে। পার্টি বা রাজনীতি কারও পছন্দ-অপছন্দে চলে না। নিজের নিয়মেই চলে। এডজাস্ট করে নিয়ে এগোতে হয়।”
বারুইপুরের র্যাম্পে তিন মৃত ভোটার ও ভ্যানিশ কুমার প্রসঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনি গোড়া থেকেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন। আগে বলছিলেন মাটির তলা থেকেও তুলে নিয়ে আসবেন। এখন সুর পাল্টেছে।” তাঁর সংযোজন, “সব সময় সামনে একটা ভূত চাই, যার বিরুদ্ধে লড়বেন। এবারের নতুন ভূত নির্বাচন কমিশন। জানুয়ারি মাসটা যেতে দিন, সুর আরও নরম হবে।”
খড়গপুর প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি বিধায়ক হওয়ার পর থেকে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খড়গপুরে থাকি। মাঝে বর্ধমান জেলার একটি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেটুকু বাদ দিলে বরাবরই খড়গপুর অঞ্চলের মানুষের পাশেই থেকেছি।”
রাসবিহারী কেন্দ্রে ৯৬ বছরের এক ভোটারকে শুনানিতে তলব করার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, “নোটিশ র্যাণ্ডম যায়। যার ক্ষেত্রে ভুল ধরা পড়ে, তাকে ডাকা হয়।” তাঁর মতে, “৭০-৭৫ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ ভোটারদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আরও মানবিক হওয়া উচিত। এই ধরনের ক্ষেত্রে বাড়িতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমস্যা মেটানোর ব্যবস্থা করা দরকার।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘একটা বুথেও বিজেপিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না’ মন্তব্য প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভোট এলে দেখা যাবে কে কাকে মাথা তুলতে দেবে। অনেক বড় বড় ডায়লগ দেওয়া লোকেরা আজ কোথায়—ইতিহাস বলছে লালু ,কেজরিওয়াল উধাও।” তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় থাকলে একটু দম্ভ থাকে। তাই কথার সুর চড়া। জানুয়ারি গেলে সেই সুর নরম হবে।”
