শুক্রবার অগ্নিপথ প্রকল্পকে 'সিভিক মিলিটারি' বলে কটাক্ষ করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "বিজেপির নেতারা এখন সারা দেশে যে কোনও ঘটনায় আন্দোলনের সামনে বামপন্থীরা এটা অন্তত বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। ওরা তো বলতো বামপন্থীরা নেই কোথাও। এখন সারা দেশে যে কোনও বিক্ষোভ আন্দোলন সে কৃষক হোক শ্রমিক হোক বা যুবদের নানান কারনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া অন্তত বামপন্থীরা যে আছে সেটা শেষমেশ ঘুরিয়ে হলেও মানতে হলো। দেশজুড়ে যুবরা বিক্ষুব্ধ স্বাভাবিক কারনে। তাঁদের তো জীবনকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান নেই শিল্প কলকারখানার বারোটা বেজে গিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বিক্রি হচ্ছে। বিএসনএল মার্কা একের পর এক বারোটা বেজে যাচ্ছে। শূন্য পদ। মিলিটারিতে গত দু'বছরে কোনও নিয়োগ নেই। এখন নিয়োগের নামে পার্ট টাইম মিলিটারি। সিভিক পুলিশের মতো সিভিক মিলিটারি। চার বছর পর তাঁদের জীবন কী হবে কেউ জানে না। অনিশ্চয়তার অন্ধকার। তখনকি প্রাইভেট ভারাটে বাহিনীর হাতে তাঁদের কাজ করতে হবে? এটা কখনও হয়? কোনও যুবকের মানুষের ভবিষ্যৎ এটা হতে পারে নাকি? যুব সমাজের সর্বনাশ করছে। আর পেশাদারিত্ব আর্মির সেটাও বারোটা বাজিয়ে দেওয়া হবে। এ একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। জীবনের শ্রেষ্ঠ চারটে বছর নিয়ে নিলাম। সুপ্রিম স্যাক্রেফাইসের জন্য তাঁরা তৈরি। কিন্তু তাদের জন্য আমাদের কোনও দায়িত্ব নেই। রাষ্ট্র যদি এভাবে চলে তাহলে মানুষের প্রতিক্রিয়া তো স্বাভাবিক।"
advertisement
আরও পড়ুন: বিস্ফোরক খুঁজে বের করতে পারদর্শী, চোখের সমস্যায় ভুগছে সেই 'বেলা', চিনুন তাকে...
অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। অনেক ক্ষেত্রেই এই আন্দোলনে হিংসার অভিযোগ উঠছে। আন্দোলনে হিংসা কোনও ভাবেই কাম্য নয় বলে জানানো হয়েছে সিপিএমের তরফে। সুজন চক্রবর্তী বলেন, "আন্দোলন কখন কোন মাত্রায় যাবে সেটা নির্ভর করে পরিপেক্ষিতের উপর। সাধারণ ভাবে সবাই সহমত হবে ধংসাত্বক মনোভাব নিয়ে আন্দোলন করা উচিত না। একটা রিঅ্যাকসনে এই জিনিস হচ্ছে। কিন্তু যখন মানুষের জীবন শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রদায়গত বিভাজন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু রাজ্যে আমরা দেখেছি এখন যারা শাসক তখন বিরোধী ছিলেন ধংসাত্বক পথে নিয়ে যেতেন। বিজেপি গোটা দেশকে ধংসাত্বক পথে নিয়ে যাচ্ছে৷ তার চাইতে বেশি কেউ সম্পত্তির ক্ষতি দেশের ক্ষতি আর তো কেউ করতে পারেনি। এতদসত্তেও খেয়াল রাখতে হবে আন্দোলনের ভাষা হিংসাত্মক না হয়। তারমধ্যে যেন প্রতিবাদ থাকে, বাস্তবতা থাকে এবং লড়াইয়ের মনোভাব থাকে হিংসাত্মক না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বিজেপির মুখে এ কথাটা মানায় না। সারা দেশকে তারা জ্বালিয়েছে।"
UJJAL ROY
