এবারের প্রার্থী তালিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল তরুণ মুখের প্রাধান্য। ছাত্র ও যুব সংগঠন থেকে উঠে আসা একাধিক প্রার্থীকে সামনে আনা হয়েছে। উত্তরপাড়া থেকে মিনাক্ষী মুখার্জি এবং দমদম উত্তর থেকে দীপ্সিতা ধর এই প্রচারের মুখ হয়ে উঠেছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন, বিশেষ করে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে তাঁদের ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ ইমেজ সামনে আনা হচ্ছে। ২৭ জন মহিলা প্রার্থী এবং ৪০ বছরের নিচে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী দিয়ে প্রথমবারের ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা স্পষ্ট।
advertisement
একইসঙ্গে শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত ভোটারদের টানতে পেশাদারদেরও প্রার্থী করা হয়েছে। যাদবপুরে প্রবীণ আইনজীবী তথা প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং টালিগঞ্জে অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বিশ্বাসের মতো নাম তুলে ধরে ‘দক্ষতার ভিত্তিতে শাসন’ বার্তা দিতে চাইছে বামফ্রন্ট। শাসক দলের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’র অভিযোগ তুলে নিজেদের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।
জোট রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের বাম-কংগ্রেস সমঝোতা কার্যত ভেঙে গিয়েছে। কংগ্রেস আলাদাভাবে ২৮৪টি আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বামফ্রন্ট এবার সিপিআই(এমএল) লিবারেশন এবং নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ-এর সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ছোট আঞ্চলিক দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
প্রার্থী নির্বাচনে আবেগের দিকটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদিয়ার কালীগঞ্জে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত এক কিশোরীর মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ইস্যুকে সামনে এনে ভোটে প্রভাব ফেলতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত ক্ষতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তায় রূপান্তর করার এই কৌশল গ্রামীণ বাংলায় কতটা সাড়া ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
