বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার প্রার্থী নির্বাচনে বড় ধরনের চমক না দিয়ে মূলত পুরনো মুখের উপরই ভরসা রাখছে বিজেপি। প্রাথমিক তালিকায় নতুন মুখের সংখ্যা খুব বেশি নেই বলেই খবর। দলের একাধিক সূত্রের দাবি, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ফের ভোটের ময়দানে দেখা যেতে পারে। খড়গপুর সদর আসনে হিরণের পরিবর্তে দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে।
advertisement
‘হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে!’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম মুখ খুলেই কড়া অবস্থান মোজতবার
ট্রেনে উঠেই এই দুই মহিলা যা করতেন…! বিরাট অভিযোগ সামনে আসতেই মাঠে নামল RPF
অন্যদিকে, আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে বর্তমান বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল আবারও দলের টিকিট পেতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তবে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম বাদ পড়তে পারে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও অধিকাংশ বর্তমান বিধায়কই টিকিট পাবেন বলেই দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
এছাড়া কিছু হাই-প্রোফাইল আসনে প্রার্থী নির্বাচনে চমক থাকতে পারে বলেও দলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে।বিজেপি সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পরই দলের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এদিন দিল্লিতে বিজেপির কোর গ্রুপের বৈঠক বসে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরপর বিকেল ৪টে থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি সংগঠনের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রাজনৈতিক প্রভাব ও ফলাফল নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রাজ্যের নেতারা। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, রাজ্য জুড়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ চলছে। আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার মাধ্যমে সেই কর্মসূচির সমাপ্তি হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ওই সভার পরই যে কোনও দিন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুধবার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, মোদির ব্রিগেড সভার পরই হয়তো ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, আগামী ১৫ বা ১৬ মার্চের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবহে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং আসনভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ নিয়েও দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্ব আলোচনা করেছে বলে খবর। কোন কেন্দ্রে কোন দল কতটা শক্তিশালী, সেই হিসেব কষেই প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বিজেপি।
সূত্রের খবর, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বাসভবনে বুধবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বঙ্গ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা।
