পরবর্তীতে নির্ধারিত শুনানির দিনে অমর্ত্য সেন শান্তিনিকেতনে নিজ বাসভবনে উপস্থিত না থাকায় তাঁর মামাতো ভাই শান্তভানু সেন হাজির হন। তিনি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র তুলে দেন এবং চাওয়া তথ্য জমা দেন।
৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা! জানেন, কে ছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই?
নেতৃত্বের শূন্যতায় বংশধরই ভরসা! আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পরে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?
advertisement
সূত্রের খবর, জমা পড়া নথি যাচাইয়ের পর এসআইআরের প্রথম তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। নোটিশে উল্লিখিত যে অসঙ্গতির কথা বলা হয়েছিল, তা নথির ভিত্তিতে মিটে গিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে বিএলও বা অমর্ত্য সেনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এসআইআর-এর মতো প্রক্রিয়া সময় নিয়ে সম্পন্ন করা উচিত ছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, নথি জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং এতে মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছিলেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, “সতর্ক হয়ে যত্ন সহকারে সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন হওয়াই ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “খুব তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। মানুষকে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এমনটা হলে তা ভোটারদের প্রতি অন্যায় হবে এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও।”
অমর্ত্য সেনের ওই মন্তব্যের পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেছিলেন, বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে গেলে কিছু ত্রুটি থাকতেই পারে এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফলই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে। তিনি জানিয়েছিলেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের তথ্য যাচাইয়ের কাজে কিছু ভুলত্রুটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন যিনি, তাঁকে এই ধরনের নোটিস পাঠানো অনভিপ্রেত। তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিজেপির ভূমিকাও সমালোচনা করেছিলেন।
রাজ্যজুড়ে এসআইআর চলাকালীন বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছিল। অমর্ত্য সেন ছাড়াও কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেব, ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাবণী সরকার-সহ একাধিক পরিচিত ব্যক্তিকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। বহু বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিও নোটিস পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের কিছু ক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ ও কথা বলতে দেখা গিয়েছিল।
