কে এই আফরিন?
বালিগঞ্জ কেন্দ্রে সিপিআইএম-এর মুখ তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের দিন মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ীর সঙ্গে প্রথম দেখা যায় আফরিনকে। আর সেই থেকেই তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু। আফরিন বেগম মূলত কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা অঞ্চলের সঙ্গে বেশি যুক্ত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সিপিএমের রাজ্য কমিটির কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত আফরিন বেগমের রাজনৈতিক উত্থান মূলত বামপন্থী গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্যে দিয়েই।
advertisement
আফরিন বেগম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। সূত্রের খবর, ২০২৫ সালেই সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলনে নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের সময় আফরিন কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হন। সিপিআইএম ‘We Are Hiring’ বলে যে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, তার মধ্যে দিয়েই সিপিআইএমের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হন। সাধারণত রাজ্য কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয় এমন কর্মীদের, যারা দীর্ঘদিন সংগঠনে সক্রিয়। কোনও বিশেষ ক্ষেত্র (যেমন শ্রমিক, ছাত্র, আইনজীবী, শিক্ষক) থেকে উঠে আসেন।
আফরিনের হলফনামায় কী চমক?
সোমবার আফরিন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ‘সর্বহারা’ দলের ২৯ বছর বয়সি এই তরুণী প্রার্থীর বিষয়-আশয় বলতে কিছুই নেই। স্থাবর সম্পত্তির ঘরে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে ‘শূন্য’। সেই সঙ্গে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামার হিসাব অনুযায়ী, আফরিনের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৭৭ টাকা ৮২ পয়সা। পেশাগত লড়াইয়ের ময়দানে নামলেও তাঁর পকেটে নগদ রয়েছে নামমাত্র— মাত্র ৫০০ টাকা।
তবে সঞ্চয়ের ঝোঁক রয়েছে তাঁর। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-সহ মোট তিনটি ব্যাঙ্কে তাঁর গচ্ছিত আমানত ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৮৫ টাকা ২২ পয়সা। ব্যাঙ্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে শেয়ার বাজারেও অল্পবিস্তর লগ্নি করেছেন তিনি। আরইসিএল, ভারত ইলেকট্রনিক্স এবং আইআরএফসি-র মতো সংস্থার শেয়ার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। যার বর্তমান বাজারমূল্য সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: মনোনয়নের দিনই জয়ের উল্লাস! পাঁচ-ছয় হাজার মানুষের সমাগম, সুজয়ই জিতছেন?
আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জীবন বিমা নিগমে ১ লক্ষ টাকার একটি পলিসিও করেছেন এই বামপ্রার্থী। তবে মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যান্য অলঙ্কার বা বিলাসিতা থেকে তিনি যে শতহস্ত দূরে, তা হলফনামাই বলছে। আফরিনের নামে যেমন কোনও গাড়ি নেই, তেমনই সোনাদানা বা মূল্যবান অলঙ্কারের কলামটিও ফাঁকা।
আশ্চর্যের বিষয় হল স্থাবর সম্পত্তি। অনেক রাজনীতিকের পাহাড়প্রমাণ বিষয়-সম্পত্তি থাকলেও আফরিন জানাচ্ছেন, তাঁর নামে কোনও চাষযোগ্য জমি, ভিটেমাটি বা বাণিজ্যিক ইমারত– কিছুই নেই। অর্থাৎ, স্থাবর সম্পত্তির নিরিখে তিনি একেবারেই ‘নিঃস্ব’। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মতো রোজগারও এখনও তাঁর হয়নি বলে হলফনামায় উল্লেখ। কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণও নেননি।
বেণীপুকুরের বাসিন্দা এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনীর নামে কোনও ফৌজদারি মামলাও নেই। এক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তরুণ মুখকে সামনে রেখেই বালিগঞ্জের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়েছে আলিমুদ্দিন। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজ্ঞতার প্রতীক, বিদায়ী মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাছাড়াও এই লড়াইয়ে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন বিজেপির প্রার্থী শতরূপা। রাজনৈতিক সমালোচকদের সিপিআইএমের ‘নতুন মুখ কোথায়’ তত্ত্বকে এবারের ভোটে আফরিন কি ছক্কা মেরে গ্যালারি পার করতে পারবেন? উত্তর ৪ মে, ২০২৬।
