উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতের ময়না অঞ্চলের বাসিন্দা ১০ মাসের শিশুকন্যার মৃত্যু হয় ফুলবাগান শিশু হাসপাতালে। গত বেশ কিছু দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট -র মতো উপসর্গে ভুগছিল এই একরত্তি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৯ দিন আগে পরিবার বি সি রায় শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন চিকিৎসার জন্যে। এরপর শুরু হয় চিকিৎসা। গত সোমবার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, পাঠানো হয় পি আই সি ইউ (ছোটদের চিকিৎসার জন্য আই সি ইউ)- তে।
advertisement
আরও পড়ুন: কলকাতার নয়া ত্রাস অ্যাডিনোভাইরাস, বিপদে শিশুরা! বিশেষ নির্দেশিকা জারি পুরসভার
সেখানেই চলছিল চিকিৎসা। এরপর পরিবারের অভিযোগ শিশু সুস্থতার কথা জানানো হলেও, বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিবারের দাবি, হাসপাতাল অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের কথা জানায় তাঁদের। অবশেষে শুক্রবার সকাল ৮ বেজে ৩০ মিনিট নাগাদ ১০ মাসের শিশুর মৃত্যুর খবর জানায় পরিবারকে। পরিবারের নেমে আসে শোকের ছায়া।
এদিনই বেলা ১২ টা নাগাদ মৃত্যু হয় আরও এক শিশুর। সম্প্রতি ওই শিশুর জ্বর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খানিক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এরপর ক্যানিংয়ে এক আত্মীয়র বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিশুটিকে ক্যানিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে হাজরা চিত্তরঞ্জন শিশু সদনে পাঠানো হয়। সেখানে বেড না থাকায় ৪ দিন আগে পাঠানো হয় বি সি রায় শিশু হাসপাতালে। এই হাসপাতালেই শুক্রবার মৃত্যু হয় শিশুটির।
আরও পড়ুন: বাড়ছে অ্যাডিনো ভাইরাসের আতঙ্ক! কীভাবে থাকবেন সুরক্ষিত, জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পরিবারের তরফে হাসপাতালের নার্সদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। তাঁদের বক্তব্য, 'নার্সরা যথোপযুক্ত পরিষেবা দিচ্ছেন না, ডাক্তারবাবুরা রয়েছেন, দেখছেন কিন্তু নার্সদের আচরণ খারাপ করছে পরিবারের সঙ্গে। সেলাইন বা অক্সিজেন মাস্ক খুলে গেলেও কেউ একবারও দেখছেন না।' সংবাদমাধ্যমের সামনে বারংবার এই ক্ষোভ উগড়ে দেয় বারাসতের এই সন্তানহারা পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবারও বি সি রায় শিশু হাসপাতালে মৃত্যু হয় মোট পাঁচ একরত্তি শিশুর। রাজ্য সরকারের তরফে বেড বাড়ানোর থেকে আরম্ভ করে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরেও শিশুমৃত্যু পুরোপুরি ঠেকানো এখনও পর্যন্ত সম্ভবপর হয়নি। এই নিয়ে যথেষ্টই উদ্বিঘ্ন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।
ওঙ্কার সরকার
