শিলিগুড়িতে আদিবাসীদের অনুষ্ঠানে এসে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন তাঁকে স্বাগত জানাতে গেলেন না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন রাষ্ট্রপতি৷
রাষ্ট্রপতির এই অভিযোগকে উল্লেখ করেই এ দিন সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ রাষ্ট্রপতি এবং আদিবাসী সমাজের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে রাজ্য প্রশাসন এবং তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি৷
advertisement
রাজ্য সরকারকে রাষ্ট্রপতির অপমানের জন্য দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন ঘটনা। গণতন্ত্র এবং আদিবাসীদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন প্রত্যেকেই এই ঘটনায় মর্মাহত। আদিবাসী সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা মাননীয়া রাষ্ট্রপতি যে বেদনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা দেখে দেশের মানুষ ব্যথিত। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সত্যিই সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ রাষ্ট্রপতির এই অপমানের জন্য রাজ্য প্রশাসনই দায়ী৷ আদিবাসী সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে উপেক্ষা করছে তাও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷ রাষ্ট্রপতির দফতর রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং তার পবিত্রতাকে সবার সম্মান জানানো উচিত৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, এটাই সবাই আশা করে৷’়
আরও পড়ুন: ‘বিজেপি-র ফাঁদে পড়েছেন, ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না’, রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে জবাব দিলেন মমতা
প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার পাল্টা জবাব দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট ট্যাগ করেই অভিষেক লেখেন, ‘বাংলার জনগণ বনাম বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই, এনআইএ, আইটি, সিএপিএফ, রাজ্যপাল, কুড়িজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, দশজন মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় রাষ্ট্রপতি এবং গোদি মিডিয়ার লড়াই৷ যখন গোটা ব্যবস্থাটাই বাংলার বিরুদ্ধে একজোট হয়, তখন বাংলা আরও দৃঢ় ভাবে প্রতিরোধ করে৷ আসুন, আমরা তৈরি৷’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ দিন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগে সরব হয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘বিজেপি সংবিধানকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে সংবিধানকে৷ মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকেও বিজেপি রাজনীতি বেচতে পাঠানো হয়েছে৷ আপনি বিজেপি-র ফাঁদে পা দিয়েছেন৷ আপনি বলছে সাঁওতালিদের অনুষ্ঠানে আমরা কাউকে যেতে দিইনি৷ আমরা তো জানতামই না৷ আপনি আসছেন সেটুকু শুধু জানতাম৷’
