কারাকাস: বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রভাবশালী সাময়িকী ‘অয়েল অ্যান্ড গ্যাস জার্নাল’ বলছে, ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার মজুত তেলের পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। মজুতের দিক থেকে সৌদি আরবের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে মজুত তেলের পরিমাণ ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। তৃতীয় অবস্থানে ইরান, মজুত ২০৮ বিলিয়ন ব্যারেল।
advertisement
এরপর যথাক্রমে রয়েছে কানাডা (১৬৩ বিলিয়ন ব্যারেল), ইরাক (১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১১৩ বিলিয়ন ব্যারেল), কুয়েত (১০১ বিলিয়ন ব্যারেল), রাশিয়া (৮০ বিলিয়ন ব্যারেল), যুক্তরাষ্ট্র (৫৫ বিলিয়ন ব্যারেল) ও লিবিয়া (৪৮ বিলিয়ন ব্যারেল)।
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের হিসাবে, বিশ্বের মোট মজুত তেলের প্রায় ২০ শতাংশের মালিক ভেনেজুয়েলা। অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী মোট মজুত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই রয়েছে ভেনেজুয়েলার মাটির নীচে। আর মজুতের দিক থেকে নবম স্থানে থাকা আমেরিকার চেয়ে পাঁচ গুণের বেশি তেল আছে ভেনেজুয়েলার হাতে। ভেনেজুয়েলার এই সমৃদ্ধ তেলসম্পদই যে এখন দেশটির ‘মহাবিপদের’ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভেনেজুয়েলার নেতা মাদুরো অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলেন, তাঁর দেশের তেলসম্পদ দখল করতে চায় আমেরিকা। আর এ কারণেই ওয়াশিংটন নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা, বেআইনি সামরিক তৎপরতাসহ নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়াচ্ছে আমেরিকা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করে আসছিল, ভেনেজুয়েলা থেকে আমেরিকায় মাদক ও অস্ত্র পাচার করা হচ্ছে। গ্যাং পাঠানো হচ্ছে। এসবের হোতা স্বয়ং মাদুরো। তিনি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছেন। মাদুরো শুধু আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক হুমকিই নন, তিনি নিজ দেশের জনগণের জন্যও একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি। মাদুরো একজন অবৈধ প্রেসিডেন্ট। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী।
ট্রাম্পের নির্দেশে গত শনিবার শেষরাতে আকস্মিকভাবে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামের অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। তারা নাটকীয়ভাবে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সেফ হোম থেকে তুলে আমেরিকায় নিয়ে যায়।
