তবে সূত্রের খবর, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও আংশিক চুক্তিতেও পৌঁছনোর সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও এটিকে শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের নির্ধারিত সময়সীমার আগে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে “নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা” চালাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চুক্তি না হলে সবকিছু উড়িয়ে দেওয়া হবে।”
advertisement
দুই ধাপের চুক্তি কাঠামো:
সূত্র অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা একটি দুই-পর্যায়ের চুক্তির খসড়া তৈরি করছেন। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, যার মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির চেষ্টা চলবে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানোও হতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম বড় ইস্যু:
আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এই দুই বিষয় চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবেই সমাধান সম্ভব, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির সময় নয়।
ইরান এই ইস্যুগুলিকে দর কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তা ছাড়তে রাজি নয়।
বাড়ছে আশঙ্কা:
মধ্যস্থতাকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হয়, তাহলে পাল্টা আক্রমণে উপসাগরীয় দেশগুলির তেল ও জল সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তারা ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সময় খুবই সীমিত এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তবুও ইরান প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস নেভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি “কখনও আগের মতো হবে না”, বিশেষত আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য।
