চলমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সংঘাতের মধ্যে এই চুক্তিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছে পাকিস্তান। দার এই পদক্ষেপকে “শান্তির ইঙ্গিত” এবং “গঠনমূলক উদ্যোগ” বলে উল্লেখ করেছেন, যা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে পারে বলেও তাঁর দাবি। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি সরাসরি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-কে ট্যাগ করেন। এর থেকেই স্পষ্ট, পাকিস্তান এই চুক্তিকে শুধুমাত্র নৌ-চলাচলের বিষয় হিসেবে নয়, বৃহত্তর কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।
advertisement
‘দোষ দেবেন না,আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে…’ মুর্শিদাবাদের অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর হরমুজ প্রণালী প্রায় কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এর জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালীকে একটি নিয়ন্ত্রণ-চৌকি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন কোনও জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে হলে তাদের পণ্য, ক্রু এবং গন্তব্য সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য জমা দিতে হয়। এরপর অনুমোদন কোড পাওয়ার পরই ইরানের নজরদারিতে জাহাজ চলাচলের অনুমতি মেলে। কিছু ক্ষেত্রে এই অনুমতির জন্য ২০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আল জাজিরা-র রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মাত্র প্রায় ১৫০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। সামগ্রিকভাবে নৌ-চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে, ফলে বিশ্ববাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সামনে এসেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী দার ইরান ও তুরস্কের নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া পাকিস্তান নিজেকে এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে।
এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ করে শান্তি প্রচেষ্টার কথা জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা নয়, বরং পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যও বটে। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকে পাকিস্তান যেন একপ্রকার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই এই ছাড় পেয়েছে—যার ফলে আবার তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পথ খুলে গেল।
