সম্প্রতি শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি অনুষ্ঠানে বাবা কিম জং–উনের পাশে জু আয়েকে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কিমের চিনের রাজধানী বেজিং সফরের সময় জু আয়ে বাবার সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। জানা যায়, সেটি ছিল জু আয়ের প্রথম বিদেশ সফর। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) বলেছে, জু আয়ে সম্পর্কে তাদের এই মূল্যায়ন তৈরি করার সময় তারা ‘নানা পরিস্থিতি’ বিবেচনায় রেখেছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারি অনুষ্ঠানে তার ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য উপস্থিতি।
advertisement
এ মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জু আয়ে ওই কংগ্রেসে উপস্থিত হয় কি না, তার ওপর নজর রাখছে এনআইএস। উত্তর কোরিয়ায় এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ, প্রতি পাঁচ বছর পরপর সেখানে দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত দলীয় কংগ্রেসে পিয়ংইয়ং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নিজেদের বৈদেশিক নীতি, যুদ্ধ পরিকল্পনা, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা লি সং-কওন সাংবাদিকদের বলেন, জু আয়ে—যাকে এর আগে এনআইএস ‘উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে’ বলে বর্ণনা করেছিল, সে এখন ‘উত্তরাধিকারী নির্ধারণ পর্যায়ে’পৌঁছে গেছে। লি বলেন, ‘কিম জু আয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছে, কোরিয়ান পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং নববর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে কুমসুসান প্যালেস অব দ্য সানেও তাকে দেখা গিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে তার মতামতের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। তাই এনআইএস বিশ্বাস করে, এখন সে উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’
কিম জু আয়ে কিম জং–উন ও রি সল জুর একমাত্র পরিচিত সন্তান। এনআইএস বিশ্বাস করে, কিম জং–উনের একটি বড় ছেলে রয়েছে, তবে এই ছেলেকে কখনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমেও দেখা যায়নি।
