বছরের পর বছর বিলম্ব এবং বিপুল ব্যয়বৃদ্ধির পর অবশেষে বাস্তবায়িত হওয়া এই মাইলফলক মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে উপরে উঠতে শুরু করলে নাসার বিজ্ঞানীরা এবং দর্শক উভয়েই হর্ষধ্বনি করে ওঠে। আর্টেমিস ২ উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে শেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় মহাকাশযানে থাকা কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘‘আমরা সমগ্র মানবজাতির জন্য যাচ্ছি।’’
advertisement
আবহাওয়া পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও তার কাছাকাছি ছিল, এবং উৎক্ষেপণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি থাকার সম্ভাবনা ছিল ৯০ শতাংশ। নীল পাড়যুক্ত উজ্জ্বল কমলা রঙের স্যুট পরিহিত এই দলে আমেরিকান রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান হ্যানসেন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রায় ১০ দিনের যাত্রায় চাঁদে অবতরণ না করে এর চারপাশে তীব্র গতিতে প্রদক্ষিণ করার আগে মহাকাশযানটির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই হল প্রথম পদক্ষেপ—কারণ এটি এর আগে কখনও মানুষ বহন করেনি।
ডকিং সিমুলেশনের সময় তারা এর ম্যানুয়াল চালনার সক্ষমতাও পরীক্ষা করবে।এটি নাসার নতুন চন্দ্র রকেট, যার নাম দেওয়া হয়েছে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস), তারও প্রথম মানববাহী ফ্লাইট। বিশাল কমলা ও সাদা রঙের এই রকেটটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার চাঁদে ফিরে যেতে পারে, যার লক্ষ্য হল একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা যা পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
এই চন্দ্র অভিযান অনেক দিক থেকেই বিশেষত্বপূর্ণ। এই প্রথম চন্দ্র অভিযানে মহাকাশে পাড়ি দিলেন একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অমার্কিন নাগরিক। তাঁরা বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে থেকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন এবং নিয়মিত নিজেদের ফিটনেস যাচাই করছেন। তাঁরা যেন মহাকাশে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি কর্মক্ষম থাকেন, সেজন্য তাঁদের খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের ওপর রাখা হয় কড়া নজর। অবশ্য চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করলেও এবার চাঁদে অবতরণ করবেন না তাঁরা৷ বরং ১০ দিনের এই সফরে চাদের চারপাশে ঘুরে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবেন তাঁরা। ভবিষ্যতে আর্টিমিস মিশনের মাধ্যমেই চাঁদে পা রাখার আগে পরীক্ষামূলক ভাবে এই যাত্রা করা হল।
আরও পড়ুন : ‘হরমুজ’ শব্দের মানে কী? কোথা থেকে এল এই নাম? কেন এই সঙ্কীর্ণ বাণিজ্য জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ? জানুন
প্রসঙ্গত ১৯৭২ সালে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাসার অ্যাপোলো প্রকল্প শেষ হয়েছিল। তার আগেই চাঁদে পা রেখেছিলেন মহাকাশচারীরা। এই অভিযান সফল হলে তৃতীয় পর্বে আর্টেমিস-৩-এর আওতায় পাঁচ দশক পরে ফের চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন মহাকাশচারীরা। তার আগে আর্টেমিস ২-এর উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হল রকেট ও মহাকাশযান উভয়েরই কার্যকর অবস্থা যাচাই করা, যা ২০২৮ সালে চন্দ্রাভিযানের পথ প্রশস্ত করবে।
