মধ্যপ্রাচ্যের মহারণ জারি! যুদ্ধ পড়েছে ৩৩ দিনে! গোটা বিশ্বেই তেলের দাম বাড়তে থাকায় যুদ্ধ থেকে বার হওয়ার উপায় খুঁজতে মরিয়া ট্রাম্প। এই সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে বুধবার আমেরিকার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ট্রাম্প।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে ইরান, কিন্তু আগে খুলে দিতে হবে হরমুজ!’ যদিও ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে ইরানি বিদেশ দফতর বলেছে, ‘‘অসত্য এবং ভিত্তিহীন দাবি। আমাদের তরফে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করা হয়নি।’’ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ না তুললে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করা হবে বলে গত ৩০ মার্চ হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতে কান দেয়নি তেহরান। পালটা ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে- জানান, ইরান আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই সময় তাদের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। তেহরানে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ‘শত্রুদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার তোয়াক্কা না করেই ইরান নিজেকে রক্ষা করতে সংকল্পবদ্ধ। যত দিন দরকার আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাব।’ ইরানের বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনায় সক্ষম বলে সতর্ক করেন তিনি।এই আবহে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এপ্রিল মাসে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে!
advertisement
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অর্থাৎ ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ। ইরানের উপর ইজরায়েল ও আমেরিকা বিমান হামলা চালায়। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ৮৬ বছরের খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষনেতার। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কোনও ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্ত’ মানবে না, স্পষ্ট জানিয়েছে দিয়েছে ইরানের নতুন নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:ইরান সংঘাতে ‘বিপুল জয়’ মার্কিন বাহিনীর, জাতির উদ্দেশে ভাষণে দাবি ট্রাম্পের
আমেরিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে এবং তারা ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় ‘আলোচনা’র একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে। আলোচনা বলতে এমন এক পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে দুই দেশ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একসঙ্গে বসে কথা বলে। বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এমন কোনও পরিস্থিতি নেই। সংঘাতে জড়িত দেশগুলো মাঝেমধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান করে। কিন্তু একে আলোচনা বলা যায় না।
