অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সেখান থেকে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভ তীব্র হলে ৮ জানুয়ারি ইন্টারনেট বন্ধ করে মাঠে নামানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে। যদিও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে সেই সময় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
advertisement
আরও পড়ুন: চাকরি শিবিরের আয়োজন জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে! জানুন বিস্তারিত
এরই মধ্যে রবিবার ৫ হাজার জনের প্রাণহানির তথ্যের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান ইরানের ওই কর্মকর্তা। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিক্ষোভে সবচেয়ে বড় সংঘাতের কিছু ঘটনা ঘটেছে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দিশ অঞ্চলে। সেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত সংখ্যা ৫ হাজার মতো হবে বলে ওই কর্মকর্তার আশঙ্কা।
‘ইজরায়েল ও বিদেশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করেছে এবং অস্ত্র দিয়েছে বলে দাবি করেন ইরানের ওই কর্মকর্তা। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেইনি বলেছিলেন, তাঁর দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েল দায়ী। বিদেশি অপরাধীদের বিনা শাস্তিতে পার পেতে দেবেন না—এমন হুঁশিয়ারও দেন তিনি।
ইরানি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের আগে আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে নিহতদের সর্বশেষ তথ্য দিয়েছিল। শনিবার তারা জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেরেছে তারা। আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের বিক্ষোভের জন্য শুধু ইজরায়েল ও আমেরিকার ওপর দোষারোপ করেননি খামেইনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ‘ক্রিমিনাল’ বলেও উল্লেখ করেন। পরে এক্সে আরেকটি পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। এটি ‘জঘন্য অপবাদ’।
