ইরান জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হাইফায় ইজরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আঘাত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা শনিবার হাইফা উপসাগরে অবস্থিত বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির মতে, ইরানের জ্বালানি খাতে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘দয়া করে নিজের কাজ করুন’! রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ‘অনুমতি’ বিতর্কে আমেরিকাকে কড়া জবাব কমল হাসানের
advertisement
ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ ক্রমেই চরম আকার নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, তেহরানের আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলিতে সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই হামলার ফলে দেশের ভেতরে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা, পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমর্থন নিয়ে ইজরায়েল তেহরানের কাছাকাছি থাকা একাধিক বৃহৎ জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক ও ডিপোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব ডিপোতে বিপুল পরিমাণে পেট্রোল, ডিজেল এবং সামরিক জ্বালানি মজুত রাখা হয়, যা রাজধানী তেহরানসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরবরাহ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ক্ষতি করা নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে দুর্বল করে দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিপোতে হামলা হলে শুধু সামরিক যানবাহন বা সেনা সরঞ্জামের জ্বালানি সরবরাহই নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। কারণ তেহরানের মতো জনবহুল শহরে গণপরিবহণ, ব্যক্তিগত যানবাহন, শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র—সবই জ্বালানি সরবরাহের উপর নির্ভরশীল।
