ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে চলমান যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে রয়েছে ‘নো ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট’ এবং হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া-সহ ১৫ দফা শর্ত!
সূত্রের খবর, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনার এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যেখানে ‘এক মাসের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা’ করা হবে। এই সময়ে দুই পক্ষ বসে ১৫ দফার একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে।
advertisement
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুই জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিক জানান, এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
ট্রাম্পের শর্তগুলি কী কী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫টির মধ্যে ১৪টি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
- ইরানকে তার বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে।
- ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
- ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা যাবে না।
- প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দ্রুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর হাতে তুলে দিতে হবে।
- নাটানজ, ইসফাহান এবং ফোরদো—এই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ভেঙে ফেলতে হবে।
- IAEA-কে ইরানের ভিতরে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার ও নজরদারির সুযোগ দিতে হবে।
- ইরানকে তার আঞ্চলিক প্রক্সি নীতি ছাড়তে হবে।
- আঞ্চলিক বন্ধু গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ, নির্দেশ ও অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
- হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে হবে, যাতে এটি অবাধ সমুদ্রপথ হিসেবে কাজ করে।
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরিসর ও সংখ্যার দিক থেকে সীমিত করতে হবে (নির্দিষ্ট সীমা পরে ঠিক হবে)।
- ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুধু আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
বদলে ইরান কী পাবে?
এই শর্তগুলো মানলে, ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরোপ করা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেতে পারে। এছাড়া, আমেরিকা ইরানের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে—বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য Bushehr Nuclear Power Plant-এর মতো প্রকল্পে সহায়তা করবে।
