যদিও ইরানের সরকার বিরোধী শিবির প্রভাবিত ওয়েবসাইট ইরান ইন্টারন্যাশনালের দাবি, বিক্ষোভের জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে৷ ইরানের খামেইনি সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীই প্রতিবাদীদের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই ওয়েবসাইটে৷
তবে ইরান ইন্টারন্যাশনাল মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে যে দাবি করছে, তা শুধু খামেইনি সরকারই নয় বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লিখিত মৃতের সংখ্যার থেকেও অনেকটা বেশি৷ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেই মৃতের সংখ্যা কয়েকশো বলে দাবি করা হয়েছিল৷ যেহেতু ইরানের অভ্যন্তরে সংবাদ যাচাই করার ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা কত তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছেই৷
advertisement
যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ইরান জ্বলছে, দেশের সেই সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই অবশ্য অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শক্তির স্বার্থেই দেশের ভিতরে এই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করা হয়েছে৷ খামেনেই বলেন, গত রাতে তেহরান এবং আরও কয়েকটি জায়গায় একদল উন্মত্ত জনতা এসে নিজেদের দেশের সম্পত্তি কয়েকটি ভবন ভাঙচুর, তছনছ করে৷ যাঁরা এই কাজ করেন তাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের উপরে বেশি ভরসা করেন৷ এই দুর্বৃত্ত এবং ব্যক্তিবিশেষ যাঁরা দেশের পক্ষে ক্ষতিকারক তাঁদের সরিয়ে দিতে হবে৷ এদের একমাত্র কাজ ধ্বংস করা৷
ইরান ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইটে অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের সরকারি বাহিনী রিভলিউশনারি গার্ড এবং বাসিজ ফোর্স গত ৮ এবং ৯ জানুয়ারি রাতে রীতিমতো পরিকল্পনা করে প্রতিবাদীদের উপরে হত্যালীলা চালিয়েছে৷ নিছক বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে প্রতিবাদীদের মৃত্যু হয়নি৷ ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, খামেনেইয়ের নির্দেশ এবং দেশের রাজনৈতিক মাথাদের পূর্ণ অনুমোদন নিয়েই অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যালীলা চালানো হয়েছে৷ ইরান ইন্টারন্যাশনালের আরও দাবি, একাধিক সূত্র থেকে যাচাই করার পরেই ১২ হাজার প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে তারা৷ ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, প্রেসিডেন্টের অফিস, রিভলিউশনারি গার্ডের অভ্যন্তরে থাকা সূত্র এবং হাসপাতাল, মেডিক্যাল অফিসার, প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে পাওয়া বয়ানের ভিত্তিতেই এই ১২ হাজার মৃত্যুর হিসেব করা হয়েছে৷
