কলকাতা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকার সাফ জানিয়ে দিল, তারা ‘যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই কথা বলেন। আব্বাস আরাগচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি মূলত ‘সন্ত্রাসীবাদীদের’ উসকে দিচ্ছে। তাঁর মতে, বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করতে তারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
advertisement
ট্রাম্প বারবার ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে বলছেন, তাঁর হাতে ‘খুব শক্তিশালী বিকল্প’ রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে তারা আলোচনার পথও খোলা রেখেছে।
তেহরানে চলা সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় আমেরিকা সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের পথ এখনও খোলা আছে। রবিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁকে ফোন করেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে বাঘাই বলেন, আমেরিকা থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ আসছে, যা অস্পষ্টতা তৈরি করছে। তবে ইরান এখনও কূটনীতিতে বিশ্বাসী।
বাঘাই আরও যোগ করেন, আলোচনা হতে হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের স্বীকৃতির ভিত্তিতে’। একতরফা কোনও চাপ বা কারও হুকুম মেনে নিয়ে নয়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ইরান আলোচনার দেশ; কিন্তু কোনও হুকুম বা বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। বাঘাই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধ’ এবং একে আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
