যদিও ট্রাম্পের সমর্থকদের বড় অংশ এখনও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছে, তবু দীর্ঘ যুদ্ধ চলতে থাকলে সেই সমর্থন ধীরে ধীরে কমতে পারে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টারা। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতের জরিপ সম্পর্কেও ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে আলোচনাও তীব্র হয়েছে। এর বড় কারণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক নিয়ে নতুন জল্পনা! শেষ মুহূর্তে কেন পিছিয়ে গেল শুটিং?
এদিকে আসন্ন ২০২৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন-এর আগে এই যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন রিপাবলিকান সাংসদদের একাংশ। তবে প্রকাশ্যে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। মিয়ামির কাছে নিজের গল্ফ ক্লাবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান একটি সীমিত পদক্ষেপ এবং এটি “স্বল্পমেয়াদি অভিযান” হতে পারে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোরভাবে জবাব দেবে।
অন্যদিকে অঞ্চলে সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। ইরানের রাজধানী তেহারানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় বিমান হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা তেহরান, ইসফাহান এবং দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্য ছিল ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর ড্রোন অবকাঠামো।
পাল্টা হামলাও চালাচ্ছে ইরান ও তার বন্ধুরাও। হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইজরায়েলের দিকে রকেট ছুড়েছে, আর ইজরায়েলি সেনাবাহিনী একাধিকবার নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায়।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র আলি মহম্মদ নাইনি বলেছেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ইরানই ঠিক করবে।
এদিকে সম্প্রতি ইরানে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনও হয়েছে। প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ইরানের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা কামাল খারাজী সিএনএন-কে জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে আপাতত কূটনীতির কোনও সুযোগ দেখছে না তেহরান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ইরানে ১২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবাননে শতাধিক এবং ইজরায়েলেও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সাতজন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
