৩২ তলা স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটটি চারজন নভোচারীকে নিয়ে উড়ানের জন্য প্রস্তুত। পৃথিবীর চারপাশে একদিন কক্ষপথে থাকার পর, তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলটি তাঁদের চাঁদে নিয়ে যাবে এবং ফিরিয়ে আনবে। এতে কোনও বিরতি নেই—শুধু চাঁদের চারপাশে একটি দ্রুত ইউ-টার্ন। প্রায় ১০ দিনের এই যাত্রাটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে শেষ হবে। এই মিশনের অন্যতম কারিগর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন জানিয়েছেন ‘‘আমাদের দল এই মুহূর্ত পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছে। নিঃসন্দেহে, সমস্ত ইঙ্গিতই এখন সঠিক এবং আমরা চমৎকার, চমৎকার অবস্থায় আছি।’’ ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ মেরামতের পর রকেটটি ভাল অবস্থায় আছে। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
advertisement
নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করার কথা ছিল, কিন্তু হাইড্রোজেন জ্বালানি লিক হওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়। লিকগুলো মেরামত করা হলেও, এরপর একটি হিলিয়াম প্রেশারাইজেশন লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত মাসের শেষের দিকে রকেটটিকে হ্যাঙারে ফিরে আনা হয়। রকেটটি দেড় সপ্তাহ আগে উৎক্ষেপণ মঞ্চে ফিরে আসে এবং এর মার্কিন-কানাডিয়ান ক্রু শুক্রবার উৎক্ষেপণস্থলে এসে পৌঁছন।
এই চন্দ্র অভিযান অনেক দিক থেকেই বিশেষত্বপূর্ণ। এই প্রথম চন্দ্র অভিযানে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অমার্কিন নাগরিক। তাঁরা বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে থেকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন এবং নিয়মিত নিজেদের ফিটনেস যাচাই করছেন। তাঁরা যেন মহাকাশে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি কর্মক্ষম থাকেন, সেজন্য তাঁদের খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের ওপর রাখা হয় কড়া নজর। অবশ্য চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করলেও এবার চাঁদে অবতরণ করবেন না তাঁরা৷ বরং ১০ দিনের এই সফরে চাদের চারপাশে ঘুরে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবেন তারা। ভবিষ্যতে আর্টিমিস মিশনের মাধ্যমেই চাঁদে পা রাখার আগে পরীক্ষামূলক ভাবে এই যাত্রা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি মিস না করে, সেজন্য নাসা তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার অপেক্ষায় বিশ্ব।
আরও পড়ুন : ‘হরমুজ’ শব্দের মানে কী? কোথা থেকে এল এই নাম? কেন এই সঙ্কীর্ণ বাণিজ্য জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ? জানুন
যদি কোনও কারণে আবহাওয়া খারাপ থাকে বা কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়, তা হলে মহাকাশযান ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও একটি উপযুক্ত সময়ে পাড়ি দেবে চাঁদে। তার মধ্যেও না হলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়ে রাখা হয়েছে। ওই সময়সীমার মধ্যে অভিযান শুরু করা যাবে। ১৯৭২ সালে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাসার অ্যাপোলো প্রকল্প শেষ হয়েছিল। তার আগেই চাঁদে পা রেখেছিলেন মহাকাশচারীরা। এই অভিযান সফল হলে তৃতীয় পর্বে আর্টেমিস-৩-এর আওতায় পাঁচ দশক পরে ফের চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন মহাকাশচারীরা।
