মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালায় বিদেশিদের কাছে অতি পরিচিত হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ৷ হাতে ছিল অত্যাধুনিক কালাশনিকভ রাইফেল, গ্রেনেড ও ধারাল অস্ত্র।রেস্তোরাঁয় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় জঙ্গিরা। পণবন্দি করে রাখা হয় বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে ৷ এরপর ২০ জন পণবন্দিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে জঙ্গিরা ৷ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বন্দিদরা কেউ মুসলিম কিনা তা জানতে তাদেরকে একে একে কোরানের একটি অংশ পাঠ করতে বলে জঙ্গিরা ৷
advertisement
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন যারা কোরান পড়তে পারেননি তাদেরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে ৷
বন্দিদের মধ্যে একজনের বাবা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা বন্দিদের ধর্ম জানার জন্য তাদের কোরান পড়তে বলেন ৷
রেজাউল করিম নামে ওই ব্যক্তি ঘটনার দিন তার ১৩ বছরের মেয়ের জন্মদিন পালন করতে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন পরিবারের সঙ্গে ৷
তিনি জানান, জঙ্গিরা বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি, বরং তাদের সকলতে ডিনার খেতে দেন ৷ এরপর জঙ্গি সেনা সংঘর্ষে পাঁচজন জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ৷ শনিবার সকালে তাদরেকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৷
তবে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অপেক্ষা করেছিল অন্য এক ছবি ৷ কোরান পড়তে না পারায় রাত ১১ টার মধ্যে সকলকে কুপিয়ে খুন করা হয় ৷ অভিযান শেষে ওই কাফের ভেতর থেকে ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সেনা বাহিনী।
এই ২০ জন পণবন্দির মধ্যে ১১ জনই বিদেশি নাগরিক ৷ নিহতদের মধ্যে রয়েছে তারুষি নামে এক ভারতীয় মহিলা ৷ বাকিরা জাপান, শ্রীলঙ্কা, ইতালি,আর্জেন্টিনার বাসিন্দা ৷ এদিন সকালে ১৩ জন পণবন্দিকে সুস্থভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী ৷ সেনা সূত্রে খবর, এদের মধ্যে একজন জাপানের নাগরিক এবং বাকি দু’জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক ৷
