আতঙ্কের রেশ বিশ্ব জুড়ে ৷ তুরস্ক, কাবুলের পর সপ্তাহ শেষ হতে হতে জঙ্গি হানার শিকার এবার বাংলাদেশ ৷ রাজধানীর অভিজাত গুলশান এলাকার একটি স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় শুক্রবার রাতে হামলা চালায় জঙ্গিরা ৷
সেনার গুলিতে ৬ জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং জীবিত অবস্থায় এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে সেনা ৷ যদিও সেনার দাবি দুই জঙ্গি পলাতক ৷ তাদের খোঁজে এলাকায় চলছে তল্লাশি ৷ এই জঙ্গি হানায় ২০ জন পুলিশকর্মী সহ আহতের সংখ্যা ৩৫ ৷ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বাংলাদেশে আইএস-এর শাখা সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা দল। সমগ্র ঢাকা জুড়ে জারি সতর্কতা ৷ পলাতক জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি ৷
advertisement
ইস্তানবুল, কাবুলের পর এবার বাংলাদেশ। আইএস জঙ্গি নিশানায় সহবাগ আন্দোলনে আঁতুরঘর।
রাত ৯টা
স্থানীয় সময় রাত নটা। ঢাকায় স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় বন্দুকবাজেরা হামলা চালায়। বিদেশিদের কাছে অতি পরিচিত হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ। সন্ধ্যা থেকেই ভিড় লেগে থাকে। দেশ বিদেশের কূটনীতিকরাও যান ওই রেস্তোরাঁয়। এ দিনও তেমনটাই ছিল। হঠাৎই আট থেকে দশ জন জঙ্গি আর্টিজান রোস্তোরাঁয় হামলা চালায়। সকলেরই মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। হাতে ছিল অত্যাধুনিক কালাশনিকভ রাইফেল, গ্রেনেড ও ধারাল অস্ত্র। রেস্তোরাঁয় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় জঙ্গিরা। বিস্ফোরণ ঘটান হয়।
ওই রেস্তোরাঁতে অন্তত বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পণবন্দি করা হয় বলে খবর। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷
রাত ৯:৩০
আধ ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় গুলির লড়াই। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয়। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত বলে জানান বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
রাত ১১.৩০
বাংলাদেশের সব সংবাদ মাধ্যমকে জঙ্গি হামলার ছবি সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের আবেদন করে র্যাব।
রাত ১২.০০
জঙ্গিদের সঙ্গে আলোচনা করে পণবন্দিদের মুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর গোলাগুলি থামে। হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তল্লাশি র্যাব ও বিজিবির।
গুলশানের রেস্তোরাঁয় কীভাবে অভিযান চালানো হবে, তার পরিকল্পনা করতে ভোর হয়ে যায়। অভিযান শুরু করার আগে রেস্তোরাঁর আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা করে দেয় পুলিশ। র্যাব, বিজিবি-র সঙ্গে শনিবার ভোরে যোগ দেয় সেনা ও কমান্ডো বাহিনী।
সকাল ৭.৪০
সকাল সাতটা চল্লিশ মিনিটে শুরু হয় অপারেশন থান্ডারবোল্ট। কম্যান্ডো বাহিনী রেস্তোরাঁর ভিতরে ঢোকে। হাজার রাউন্ডের বেশি গুলি চলে আধঘণ্টার মধ্যে। একাধিক জোরালো বিস্ফোরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক থেকে ছোড়া হয় গুলি । আশপাশের ভবনের ছাদে ছিল কমান্ডো বাহিনী। তারা টেলিস্কোপ লাগানো স্নাইপার রাইফেল থেকে গুলি ছোড়ে।
সকাল ৭.৫৩
গুলির লড়াইয়ে মাত্র ১৩ মিনিটে ৬ জঙ্গি মারা পড়ে।
সকাল ৮.১৫
সোয়া আটটা নাগাদ েসনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক রেস্তোরাঁর দেওয়াল ভেঙে ভিতরে ঢোকে। আরও তিনটি ট্যাঙ্ক অভিযানে যোগ দেয়।
সকাল ৮.৩০
সাড়ে আটটায় অভিযানের সমাপ্তি।
বাংলাদেশ প্রশাসন জানিয়েছে, পণবন্দি ২০ জনকে রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে জঙ্গিরা। ৮-৯ জন জঙ্গি রেস্তোরাঁয় ঢুকেছিল। কয়েকজন অভিযানে মারা পড়ে। আটক করা হয় একজনকে। একাধিক জঙ্গি বেপাত্তা।
বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ট্যুইট করে জানান,নিহতদের মধ্যে রয়েছে তারিষি জৈন নামে ভারতীয় তরুণী।
তিন বিদেশি-সহ ১৩ জন পণবন্দীকে উদ্ধার করেছে সেনা ৷ গুলির লড়াইয়ে জখম ২০ পুলিশকর্মী ৷ জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইতে দুই পুলিশ কর্তার মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানীর ওসি সালাউদ্দিন।
