বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪টিই শিশু। তাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স দুই বছরের কম। নিহত হয়েছেন তাদের মায়েরাও। গাড়িতে শিশুদের শান্ত রাখতে মায়েরা হয়ত চুষনি মুখে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মা-সন্তান কেউই এখন আর বেঁচে নেই। দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা সেই চুষনি যেন মর্মান্তিক ঘটনাটির নীরব সাক্ষী।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘বিজেপি অপেক্ষা করছে’, বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ! একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পরও আজ সকালে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতা। কেউ কেউ ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শিউরে উঠছিলেন, কেউ আফসোস করে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর ব্যথা উপলব্ধির চেষ্টা করছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই রফিকুল ইসলামের বসতবাড়ি। আজ সকালে তিনি রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরো, জুতো ও অন্যান্য জিনিস দেখছিলেন।
তিনি বলেন, ‘জীবনে এত বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। মাঠে গরু রেখে ঘরে ফিরছিলাম। হঠাৎ শুনি বিকট শব্দ। প্রথমে ভেবেছিলাম গরুটা হয়তো বাসের সামনে পড়েছে। পরে দেখি, দুই গাড়ির সংঘর্ষ। চারদিকে রক্ত আর আহত মানুষ। একসঙ্গে এত মানুষকে আহত হতে আগে দেখিনি।’ রফিকুল ইসলামের পাশাপাশি স্থানীয় অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে শোক প্রকাশ করছেন। শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সকালে সেখানে এসেছিলেন শান্তি রানী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘রাতে খবরে দেখেছি কী ভয়াবহ দুর্ঘটনা হয়েছে। তাই দেখতে এলাম।’
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অনেক যানবাহনের চালককেও গাড়ি থামিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে রাতেই দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার আগেই নববধূকে নিয়ে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল বরপক্ষের। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষা করছিলেন বর-কনেকে বরণ করার জন্য। আজ সকালে নতুন বউকে ঘিরে হাসি-আড্ডা, খাওয়াদাওয়া আর শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকার কথা ছিল বাড়িটি। কিন্তু এখন সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাড়ি ও আশপাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন ঠিকই, তবে পরিবেশ ভারী হয়ে আছে অনাকাঙ্ক্ষিত শোকে।
