‘স্প্রিং ২০২৬’ যুদ্ধ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্ট্রেট অব হরমুজ খুলে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে এক বিস্ফোরক বার্তা দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতেই শেষ হয়ে যাবে, আর কখনও ফিরে আসবে না। আমি তা চাই না, কিন্তু সম্ভবত সেটাই ঘটতে চলেছে।”
advertisement
এই মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত আর সীমিত পর্যায়ে নেই, বরং তা পূর্ণমাত্রার পরিকাঠামো ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। যা পরমাণু হামলাও হতে পারে।
‘আমরা অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটছি বলে পেটে ব্যথা হচ্ছে!’ অসমে একযোগে মমতা-রাহুলকে আক্রমণ অমিত শাহের
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তেমনটাই হবে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যদিও ইরানে এখন শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। উগ্রপন্থী মানসিকতার ব্যক্তিরা কম প্রাধান্য পাচ্ছেন। কিছু চমৎকারও ঘটতে পারে। কে জানে! বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে, আজ রাতেই আমরা সবটা জানতে পারব। ৪৭ বছর ধরে চলা দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। ইরানের মহান জনগণের মঙ্গল হোক!’
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের সামরিক ঘাঁটি, আইআরজিসি কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল। তবে এই নতুন হুঁশিয়ারি থেকে বোঝা যাচ্ছে, এবার ইরানের গোটা অসামরিক পরিকাঠামোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের “প্রতিটি সেতু এবং প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র” ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ এবং পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, যা একটি আধুনিক রাষ্ট্রকে কার্যত অচল করে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এর উদ্দেশ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা এবং সম্পূর্ণ শাসন পরিবর্তনের পথ তৈরি করা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ট্রাম্প কি পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন? “আর কখনও ফিরে আসবে না” এই মন্তব্য ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা ‘বৃহৎ মাত্রার প্রচলিত অস্ত্র’ ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ, তবুও এত বড় ধ্বংসের হুমকিতে পারমাণবিক ছায়া ঘনিয়ে আসছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকের মতে, এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে আসলে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে চাইছে ওয়াশিংটন, যাতে ইরান আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করে। ইসলামাবাদে চলা শান্তি আলোচনায় ১৫ দফা প্রস্তাব মানতে বাধ্য করাই এর লক্ষ্য হতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরানের অবস্থান এখনও অনড়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ১৪ মিলিয়নেরও বেশি নাগরিক দেশ রক্ষায় প্রাণ দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে রক্ষা করতে সাধারণ মানুষকে ‘মানবঢাল’ গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরানজুড়ে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। মঙ্গলবার দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে বাঁচাতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক রাষ্ট্রপুঞ্জকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা হলে তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে—আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি এক রাতেই ভেঙে পড়বে একটি দেশের পরিকাঠামো, তার দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।
