দমকল বাহিনীর কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, “উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা তার ক্রেনের সাহায্যে বাসটি উদ্ধার করেছে এবং ভিতর থেকে ১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর বুধবার মধ্যরাতের দিকে বাসটি উদ্ধার করা হলে ডুবুরিরা এর আগে দুই মহিলার নিথর দেহ উদ্ধার করেন এবং পরে বাকি ১৪ জনের সন্ধান পান।
advertisement
দমকল বাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর ডুবুরিরা সামরিক ও পুলিশের সাহায্যে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন। জানা গিয়েছে, ঢাকাগামী বাসটিতে বেশ কয়েকজন শিশু-সহ প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন এবং তাদের বেশিরভাগই ইদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছিলেন।
রাজবাড়ি জেলা প্রশাসনের কর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে তাঁদের ডেকেছিলেন এবং দুর্ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এর আগে জানিয়েছিল, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর প্রায় ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে পৌঁছতে সক্ষম হন বা উদ্ধার হন, কিন্তু বাকিদের অধিকাংশই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
টার্মিনালের সুপারভাইজার মনির হোসেন বলেন, “বাসটি যখন পন্টুন থেকে ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিল, তখন আরও একটি ছোট ফেরি পন্টুনটিকে ধাক্কা দেয়। বাসচালক স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি নদীতে পড়ে যায়,।’’
“আমাদের চোখের সামনেই বাসটি নদীতে পড়ে গেল, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না,” তিনি আরও বলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনের কর্তাদের মতে, যাত্রীদের অনেকেই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন বেঁচে গেলেও, বাসটি ডুবে যাওয়ার সময় তাঁদের আত্মীয়রা বাসের ভেতরেই ছিলেন।
ফেরিঘাট সূত্রে খবর, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ নাগাদ বাসের কিছু অংশ নদীর উপরে দেখা যায়। সাড়ে ১১টা নাগাদ বাসটিকে ক্রেন দিয়ে তোলা হয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ভিডিও। নেটিজেনদের আশঙ্কা, চালকের পরিবর্তে খালাসিকে দিয়ে বাস চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অনেকের আশঙ্কা, হয়তো স্টিয়ারিং হাতে চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস তলিয়ে গেল ভরা পদ্মায়।
