সূত্রের খবর, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনার এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যেখানে ‘এক মাসের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা’ করা হবে। এই সময়ে দুই পক্ষ বসে ১৫ দফার একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুই জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিক জানান, এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
advertisement
ট্রাম্পের শর্তগুলি কী কী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫টির মধ্যে ১৪টি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
ইরানকে তার বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে।
ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা যাবে না।
প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দ্রুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর হাতে তুলে দিতে হবে।
নাটানজ, ইসফাহান এবং ফোরদো—এই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ভেঙে ফেলতে হবে।
IAEA-কে ইরানের ভিতরে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার ও নজরদারির সুযোগ দিতে হবে।
ইরানকে তার আঞ্চলিক প্রক্সি নীতি ছাড়তে হবে।
আঞ্চলিক বন্ধু গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ, নির্দেশ ও অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে হবে, যাতে এটি অবাধ সমুদ্রপথ হিসেবে কাজ করে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরিসর ও সংখ্যার দিক থেকে সীমিত করতে হবে (নির্দিষ্ট সীমা পরে ঠিক হবে)।
ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুধু আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ১৫ দফা শর্ত খারিজ করে ইরান জানিয়েছে দিয়েছে, তারাই ঠিক করবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে! আমেরিকার পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিল ইরান৷ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছিলেন, একই সঙ্গে তাও খারিজ করল তেহরান৷ ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় এবং শর্ত কী হবে, তা তাঁরাই ঠিক করবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে তেহরান৷
ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালী চালু হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তাও ভেস্তে গেল৷ ফলে যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত কমার বদলে আরও তীব্র হবে কি না, সেই আশঙ্কাও দেখা দিতে শুরু করল৷
ইরান প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তাকে উদ্ধৃত করে সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-তে জানিয়েছে, যে যুদ্ধে আমাদের নামতে বাধ্য করা হয়েছে, সেই যুদ্ধে ইতি টানতে আমেরিকার দেওয়া শর্তে সাড়া দেয়নি ইরান৷ ওই আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের শর্তেই এই যুদ্ধ শেষ হবে৷ তার আগে তারা কোনও ধরনের আলোচনা অথবা দর কষাকষির রাস্তায় হাঁটবে না৷
