TRENDING:

Tokyo Olympic 2020 : রাতভর মশার গান, ঘড়িহীন বাড়িতে ভাঙা হকি স্টিক, পরিচারিকাকন্যার নেতৃত্বেই ইতিহাস

Last Updated:

সে দিনের ঠেলাচালক এবং পরিচারিকার মেয়ে রানি রামপালেরর (Rani Rampal) নেতৃ্ত্বে প্রথম বার অলিম্পিকের সেমিফাইনালে ( Tokyo Olympic 2020) ভারতীয় মহিলা হকি দল ৷

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
মশার বিনবিনানি ভরা বিদ্যুৎহীন ভাড়াবাড়ি থেকে, নিজের জীবন থেকেই পালাতে চাইতেন তিনি ৷ কিন্তু পারেননি ৷  লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালাতে না পারার ব্যর্থতা আজ দেশকে এনে দিল নজিরবিহীন সম্মান ৷ সে দিনের ঠেলাচালক এবং পরিচারিকার মেয়ে রানি রামপালেরর (Rani Rampal) নেতৃ্ত্বে প্রথম বার অলিম্পিকের সেমিফাইনালে ( Tokyo Olympic 2020) ভারতীয় মহিলা হকি দল ৷ গৌরবের এই মুহূর্তে অন্তর্জালে নতুন করে ঘুরছে রানির পুরনো সাক্ষাৎকার ৷ যেখানে তাঁর কথায় ফিরে এসেছে অনটনের অতীতের অন্ধকার ৷
advertisement

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রর শাহাবাদ মরকন্দ এলাকায় ঠেলা চালাতেন রানির বাবা ৷  মায়ের জীবিকা ছিল পরিচারিকাবৃত্তি ৷ দিনের শেষে কায়ক্লেশে উপার্জন ১০০ টাকা ৷ তবুও মেয়ের নাম রেখেছিলেন ‘রানি’৷ মাথায় মুকুট না থাকলেও হাতে ভাঙা হকি স্টিকের অভাব হয়নি ৷ পরনে মলিন সালোয়ার কামিজ, হাতে ভাঙা স্টিক নিয়েই দৌড়তেন রানি ৷

নামমাত্র দুধে অনেকটা জল মিশিয়েও পেট ভরত না ৷ যথাযথ পুষ্টি তো দূর অস্ত্ ৷ খিদের কথা মনে পড়ত না হাতে হকি স্টিক নিলে ৷ ৬ বছর বয়স থেকেই ওই স্টিক সঙ্গী রানির ৷ প্রথমে শাহাবাদ হকি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষক বলদেব সিংয়ের কাছে অনুশীলন ৷ ২০১০-এ মাত্র ১৪ বছর বয়সে সিনিয়র দলে আত্মপ্রকাশ ৷ বিশ্বকাপে ৭ গোল দিয়ে ভারতীয় দলে সর্বোচ্চ গোলদাতা ৷ নামের পাশে ‘ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ পরিচয় ৷

advertisement

এই পরিচয়ের কিছু বছর আগেও রানিকে ‘অপুষ্টির শিকার’ বলে খেলার সুযোগ দিতে চাননি কোচ ৷ বাড়ির কাছেই হকি শেখানোর প্রতিষ্ঠান ৷ সেখানে বাকিদের অনুশীলন দেখে কাটত সময় ৷ একদিন ওই মাঠেই কুড়িয়ে পেলেন পড়ে থাকা বাতিল হকি স্টিক ৷ ভাঙা সেই হাতিয়ার নিয়েই ছুটতেন কিশোরী ৷

ছুটতেন? নাকি পালাতেন? ‘‘আমার জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলাম ৷ বিদ্যুতের অভাব, ঘুমনোর সময় মশার গান, দুবেলা সামান্য খাবার, বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ঘর—সব কিছু থেকে মুক্তি চাইতাম ৷ আমার বাবা মা তাঁদের সেরাটা নিঙড়ে উজাড় দেওয়ার চেষ্টা করতেন ৷ কিন্তু খুব সামান্যই তাঁদের আয়ত্তে ছিল ৷’’ কিছু বছর আগে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন অধিনায়ক ৷

advertisement

জানিয়েছিলেন, বহু অনুরোধের পর কোচ রাজি হন প্রশিক্ষণ দিতে ৷ কিন্তু বিধিবাম তারপরও ৷ অরাজি বাবা মা ৷ মেয়ে হকি খেলুক, চাননি রানির বাবা মা ৷

কন্যাসন্তান ঘরের কাজকর্ম করবে, সেটাই দস্তুর ৷ তার বদলে সে কিনা ছোট স্কার্ট পরে মাঠে দৌড়বে ! সম্মত ছিল না রানির বাড়ি ৷ রানি একটা সুযোগ চেয়েছিলেন ৷ বলেছিলেন, ব্যর্থ হলে সব ছেড়েছুড়ে বাবা মা যা বলবেন তাই শুনবেন ৷

advertisement

নিমরাজি হয়েছিলেন রানির বাবা মা৷ অনুমতি মিলেছিল অনুশীলনে যাওয়ার ৷ ঘড়িহীন বাড়িতে শেষরাত থেকে মা জেগে বসে থাকতেন ৷ আকাশ একটু ফর্সা হতেই ডেকে দিতেন মেয়েকে ৷ কাকভোর থেকে মাঠে শুরু হত অনুশীলন ৷ সেখানে সকলকে বাড়ি থেকে ৫০০ মিলি দুধ নিয়ে যেতে হত ৷ রানি বাড়ি থেকে পেতেন মাত্র ২০০ মিলি দুধ ৷ সকলের চোখের আড়ালে তাতে জল মিশিয়ে নিতেন ৷ খেলতে যে তাঁকে হবেই

advertisement

এই পর্বে কিন্তু পাশে ছিলেন কোচ ৷ হকি কিটস, জুতো কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে নিজের পরিবারে আশ্রয় ৷ খেয়াল রাখতেন রানির খাওয়ার দিকেও ৷ যাতে এক দিনের অনুশীলনও রানির বাদ না যায়, সেদিকে নজর ছিল প্রশিক্ষকের ৷

প্রথম উপার্জনের ৫০০ টাকা রানি তুলে দিয়েছিলেন বাবার হাতে ৷ সেই প্রথম অত টাকা একসঙ্গে হাতে নিয়েছিলেন তাঁর বাবা ৷ তত দিনে একটু একটু করে বিশ্বাস জন্মেছে ‘স্কার্ট পরে খেলা’-তেও সম্মান আছে ৷ মেয়েকে অনুমতি দিয়েছিলেন, নিজের মনের কথা শুনে হকি চালিয়ে যেতে ৷ আত্মীয়স্বজনদের ‘বিয়ে কবে হবে’ প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন রানি৷

সেই যাত্রাপথে রানি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, একদিন তাঁরা নিজেদের বাড়িতে থাকবেন ৷ নিজের কাছে করা সেই প্রতিজ্ঞা তিনি রেখেছেন ৷ ২০১৭ সালে নিজেদের বাড়ি হয়েছে তাঁদের ৷ সেদিন বাবা মাকে জড়িয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন রানি ৷ আজও তাঁদের সকলের চোখে আনন্দাশ্রু ৷

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
ভোটের মধ্যে কমতে চলেছে এনবিএসটিসি বাসের সংখ্যা! কোন কোন রুটে কমে যাবে বাস পরিষেবা জেনে নিন এক নজরে
আরও দেখুন

ওই নোনতা স্বাদই বলছে, পদকজয়ের লক্ষ্যে ফাইট রানি, ফাইট !!

বাংলা খবর/ খবর/ফিচার/
Tokyo Olympic 2020 : রাতভর মশার গান, ঘড়িহীন বাড়িতে ভাঙা হকি স্টিক, পরিচারিকাকন্যার নেতৃত্বেই ইতিহাস
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল