Success Story: হুইল চেয়ারে ভর করেই উচ্চমাধ্যমিকে নজিরবিহীন রেজাল্ট, বিশ বছরের সফল শিক্ষিকা! বর্ধমানের স্বরূপাই এখন অনেকের অনুপ্রেরণা
- Reported by:Sayani Sarkar
- hyperlocal
- Published by:Madhab Das
Last Updated:
East Bardhaman Success Story: একসময় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্যই শহরের নামী স্কুলে ভর্তি দেওয়া হয়নি তাকে। বাধ্য হয়েই ভর্তি হতে হয়েছিল অন্য স্কুলে। এরপরও এসেছে একের পর এক বাধা, সহপাঠীদের কাছে থেকেও শুনতে হয়েছে নানা কটুক্তি। আজ তিনি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা।
বর্ধমান, সায়নী সরকার: একসময় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্যই শহরের নামী স্কুলে ভর্তি দেওয়া হয়নি তাকে। বাধ্য হয়েই ভর্তি হতে হয়েছিল অন্য স্কুলে। এরপরও এসেছে একের পর এক বাধা, সহপাঠীদের কাছে থেকেও শুনতে হয়েছে নানা কটুক্তি। তার সর্বক্ষণের সঙ্গী হুইল চেয়ার ও ক্যাথেটার কিন্তু হুইলচেয়ারের চাকাকে সম্বল করেই তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের জীবনের চাকা। নিজে কিছু করার অদম্য জেদ আর ইচ্ছা শক্তির জোরেই তিনি আজ একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। জীবন সংগ্রামে যেন তিনি সব সময়ই ‘ফার্স্ট গার্ল’, শত বাধা পেরিয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর জলজ্যান্ত উদাহরণ বর্ধমানের স্বরূপা।
বর্ধমান শহরের নতুনপল্লী এলাকার বাসিন্দা স্বরূপা দাস। বর্তমানে বর্ধমান শহরের রেলওয়ে বিদ্যাপীঠের বাংলার শিক্ষিকা তিনি। তবে তার শিক্ষিকা হওয়ার পথটা ছিল না খুব একটা মসৃণ নানা চড়াই-উতরাই-এর মধ্যে দিয়ে পেরিয়েছে তার জীবন। তার জন্ম আর পাঁচটা শিশুর মতোই কিন্তু মাত্র ১০ মাস বয়সেই ঘটেছিল জীবনের প্রথম ছদ্মপতন। ধরা পড়ে,স্পাইনাল কডে টিউমার। অপারেশনের পর থেকেই কোমরের নিচের অংশ হয়ে যায় সম্পূর্ণ প্যারালাইস, শুরু হয় নতুন জীবন যুদ্ধ। নানা বাধা পেরিয়ে স্কুলে ভর্তি হলেও ৭-৮ এ পড়ার সময় সহপাঠীদের কটুক্তিতে চলে গেছিলেন ডিপ্রেশনে। সেই সময় পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন স্কুলেরই এক শিক্ষিকা, তার বলা কিছু কথাই বদলে দিয়েছিল তার জীবন। সেটাই ছিল জীবনের টার্নিং পয়েন্ট, তিনি ঠিক করেছিলেন শিক্ষিকা হবেন। উচ্চ মাধ্যমিকের জেলায় ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম এবং রাজ্যে ২০ জনের মধ্যে একজন হন তিনি। কিন্তু লড়াই যেন পিছু ছাড়ছিল না স্বরূপার। কলেজে পড়ার সময় আবারও ঘটে জীবনে ছন্দপতন হঠাৎই ধরা পড়ে কিডনি সমস্যা। কিন্তু কোনও কিছুই আর আটকাতে পারেনি তাকে।
advertisement
advertisement
স্বরূপা বলেন, “লড়াইটা ছিল খুব কঠিন, কিন্তু আমার মা বাবা সেই কঠিন লড়াইটা লড়ে ছিল। স্কুল জীবনের কিছু বন্ধুর সাহায্য পেলেও, কলেজ জীবনের কারও সাহায্য পাইনি, পাইনি ভাল বন্ধু। বাবা বা কাকা দোতলাতে ক্লাসে তুলে দিয়ে আসতেন। এভাবেই শেষ করি কলেজ। তারপর বাংলায় এম এ-ও করি। এম.এ করে SSC দিয়ে চাকরি পেলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে আমাকে নিতে চাইনি। বলা হয়েছিল আমি নাকি পড়াতে পারব না। অনেক যুদ্ধের পর ঠিক হয় একমাস নজরদারি রাখা হবে আমি কেমন পড়াচ্ছি। আজ ২০ বছর শিক্ষকতা করছি সেই স্কুলেই। বর্তমানে সহকর্মী সকলে আমার বন্ধুর মতো।”
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করতে ও ঘুরতে ভালবাসেন স্বরূপা। হুইলচেয়ার আর ক্যাথিটারকে সঙ্গী করেই ঘুরেছেন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। আর তার এই যুদ্ধে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী তার কাকা। তিনি যেন তার বেস্ট ফ্রেন্ড। স্বরূপার কাকা বারিন দাস বলেন, “স্বরূপা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে ইচ্ছাশক্তি থাকলে এই অবস্থাতেও কোথায় পৌঁছনো যায়। এটা আমাদের কাছে গৌরবের। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই ভাবে আমরা কিছু করতে পারছি না, হাল ছেড়ে দেয়। তাদের শেখা উচিত স্ট্রাগেল কাকে বলে।” শরীরের সীমাবদ্ধতা কোনওদিন স্বপ্নের সীমানা হতে পারে না, তা প্রমাণ করেছেন স্বরূপা। একসময় যার জন্য বন্ধ হয়েছিল স্কুলের দরজা, আজ তাঁরই হাত ধরে খুলছে আগামীর শত শত পড়ুয়ার ভবিষ্যতের দরজা।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
First Published :
Jan 10, 2026 4:05 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
Success Story: হুইল চেয়ারে ভর করেই উচ্চমাধ্যমিকে নজিরবিহীন রেজাল্ট, বিশ বছরের সফল শিক্ষিকা! বর্ধমানের স্বরূপাই এখন অনেকের অনুপ্রেরণা









