২০২৩ সাল ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম ব্যস্ত ও সফল বছর। ওয়েব সিরিজ ‘ডাকঘর’ ও ‘রাজনীতি’, পাশাপাশি ছবি ‘বগলা মামা যুগ যুগ জিও’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেন ‘প্ল্যাটোনিক’ নাটকের মাধ্যমে। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।
৮ সদস্যের মডিউলের ‘মাথা’ মালদহের উমর ফারুক! কী ভাবে যোগাযোগ হয়েছিল কাশ্মীরের জঙ্গি সাবিরের সঙ্গে?
advertisement
এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক চড়াই-উতরাইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পরিণত করেছে। তাঁর কথায়, “কথার থেকে কাজ অনেক বেশি জোরালো—এটাই এ বছরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।” নতুন বছরে অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও পরিণত করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ছাত্রী হিসেবে বরাবরই মেধাবী দিতিপ্রিয়া। কলকাতার পাঠভবন থেকে স্কুলজীবন শেষ করেন। উচ্চমাধ্যমিকে ৮২ শতাংশ নম্বর পান, তখনও নিয়মিত শুটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কলকাতার আশুতোষ কলেজে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন। পরে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতে গবেষণা, এমনকি পিএইচডি করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। নেট পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছেন।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে দিতিপ্রিয়া লেখেন, টানা রাত জেগে অসংখ্য খসড়া আর সুপারভাইজারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে তাঁর ডিসার্টেশন সম্পূর্ণ হয়েছিল। “গতকাল থিসিস জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করলাম। যাঁরা সব সময় পাশে ছিলেন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা এক সময় ভেবেছিলেন, আমার পেশার জন্য হয়তো আমি দশম শ্রেণিও শেষ করতে পারব না। তাঁদের সন্দেহই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে,” লেখেন তিনি।
আরও একটি আবেগঘন মুহূর্তের কথাও ভাগ করে নেন অভিনেত্রী। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত যিনি তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষক ছিলেন, তিনি তখন স্নাতক স্তরের ছাত্রী। সম্প্রতি সেই শিক্ষকই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে দিতিপ্রিয়া জানান, শিক্ষককে নতুন ভূমিকায় দেখে তা ছিল গর্বের মুহূর্ত। “টিউটর থেকে অধ্যাপক—জীবন যেন পূর্ণ বৃত্তে ঘুরে এল,” মন্তব্য তাঁর।
সম্প্রতি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে অভিনেতা জিতু কমলের বিপরীতে অভিনয় করা কালীন বিতর্কে জড়িয়েছিলেন দিতিপ্রিয়া। অশান্তি বাড়তে থাকায় এই ধারাবাহিকে কাজ করা ছেড়ে দেন তিনি। এর পর আরও বেশি করে পড়াশোনা এবং উচ্চ শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। তবে অভিনয়েও শীঘ্রই নতুন খবর দিতে চলেছেন তিনি। অভিনয় ও পড়াশোনার মধ্যে সমান তালে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলেছেন দিতিপ্রিয়া রায়। উচ্চশিক্ষার পথে তাঁর এই সাফল্য ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
