সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সিজানের পরিবার তুনিশার মায়ের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেয়। যেখানে সিজানের বোনের দাবি, তুনিশার মা চাইতেন না, সিজানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হোক। আর তাই জন্যেই নাকি প্রয়াত নায়িকার মন খারাপ ছিল।
আরও পড়ুন: এনে দিতে হবে বাড়ির খাবার, কাটাতে চান না চুল! হেফাজতে নানা সমস্যায় নাজেহাল সিজান
advertisement
সিজানের বোন ফালাক নাজের দাবি, সিজান-তুনিশার সম্পর্ক খুবই ভাল ছিল। তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল। অভিনেত্রীর তির উল্টে তুনিশার মায়ের দিকে। তিনি জানান, তুনিশার মা নাকি সিজানের সঙ্গে তাঁর মেয়ের সম্পর্ক মেনে নেননি। আর তাই জন্যেই নাকি সিজান তুনিশাকে বলেছিলেন, ''তুন্নি, চলো আমরা যে যার কাজে মন দিই। তুমি তোমার মতো করে জীবন যাপন করো। আমি চাই না, তুমি কারও উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ো। একে অপরকে সময় দিই।'' সিজানের বোনের দাবি, দু'জনেই এই শর্তে রাজি হয়।
অন্যদিকে সিজানের পরিবার দাবি করে, ছোটবেলার কিছু ঘটনার জন্য মানসিক অবসাদে ভুগতেন তুনিশা। এক আঙ্কল-এর কথা উল্লেখ করেন তাঁকা৷ অভিযোগ, এই ব্যক্তিকে ভয় পেতেন তুনিশা৷ এমনকি সিজানের বোনেরা তুনিশার মাকেও তার শৈশবের মানসিক ট্রমার কারণ হিসাবে দায়ী করেছেন৷ সিজানের আইনজীবী শৈলেন্দ্র মিশ্র বলেন, "সঞ্জীব কৌশলের নাম শুনে তুনিশা আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন। সঞ্জীব কৌশলের প্ররোচনায় তুনিশার মা তাঁর ফোন ভেঙে দিয়েছিলেন৷"
প্রয়াত নায়িকার মা দাবি করেছিলেন, সিজান নাকি সেটে বসেই মাদক সেবন করতেন। সেই প্রসঙ্গে সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলনে সিজানের মা এবং বোনেরা জানান, অভিনেতা কোনও দিন মাদক সেবন করেননি। এবং পুলিশ ইতিমধ্যে সেই নিয়ে তদন্ত করছে।
সিজানের মা শাফাক নাজ বলেন, ''তুনিশার মা দাবি করেছেন, আমার ছেলে তুনিশাকে থাপ্পড় মেরেছে। যদি আপনার সন্তানকে এভাবে মারধর করা হয়, তাও আপনি চুপ করে বসে থাকবেন নাকি! এমন যদি আমার সন্তানকে কেউ এভাবে হেনস্থা করত, মা হয়ে আমি বসে থাকতাম না! এরকম কিছু হলে উনি আমাকে ফোনে বলতে পারতেন না? কথা তো হত আমাদের। আমাদের বাড়ি এসে সিজানকে থাপ্পড় মারতে পারতেন না? কিসের অপেক্ষা করছিলেন? তুনিশার এই পদক্ষেপের? এসব অভিযোগ না তুলে ওনার উচিত, কেন এই পদক্ষেপ করল, সেটা খুঁজে দেখা। সত্যিটা সামনে আসা দরকার। একজন মা এটা কী করে করতে পারেন? আমিও বিচার চাই কারণ সে আমারও মেয়ের মতোই ছিল। তুনিশা আমার ছোট মেয়ের মতো। সে তো চলে গেল। অন্য দিকে আমার ছেলে। যে কিনা নির্দেষ, তাও সে জেলে। বনিতা (তুনিশার মা) ওর পিছনে পড়েছে।''
এর পরই বনিতাকে উদ্দেশ্য করে শাফাক প্রশ্ন করেন, ''আপনি কী চান বনিতাজি? আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আপনি কি চান আমার ছেলেও করুক? আপনি ওকে মানসিক ভাবে হেনস্থা করছেন!''
পুলিশ সূত্রে খবর, ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন নায়িকা, তার পর অনেকক্ষণ না বেরোলে দরজা ভেঙে মেকআপ রুমে ঢোকা হয়। সেখানেই ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ মেলে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিনেত্রী আত্মঘাতী হয়েছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্বাসরোধ হওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে তুনিশার। তার পর থেকে মৃত্যুতদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
