৬/৮৮ বিজয়গড় রোডের তিনতলা আবাসন অনন্যা অ্যাপার্টমেন্ট। সবচেয়ে উপরের তলায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন রাহুল! প্রথমে খবরটা পাড়া-প্রতিবেশীরা কেউ বিশ্বাস করতে পারেননি। মানতে পারেননি বাবিন নেই। কিন্তু রাত বাড়তে বাড়তে ভিড় বাড়তে থাকে রাহুলের আবাসনের বাইরে। ততক্ষণে স্পষ্ট, খবরটা সত্যি!
বিজয়গড় পাড়ায় সবার বড় প্রিয় ছিল রাহুল! রাহুলেরও শিকড়ের টান ছিল প্রবল! বরাবরই তাঁকে বলতে শোনা যেত, ” এই বিজয়গড় ছেড়ে আমার যাওয়া হবে না…” কিন্তু সব ছিঁড়ে, সেই চলেই গেলেন! বাবিন নেই মেনে নিতে পারছেন না পরশিদের কেউই! রাহুলের ঘনিষ্ঠ এক প্রতিবেশী বললেন, ”এত স্পষ্টবাদি মানুষ ছিল! ছোটবেলা থেকে দেখছি। প্রায়ই পাড়াতে দেখা হত। কিছুদিন আগেই পাড়ায় টুর্নামেন্ট খেলল। আমি তো ওর বাড়িতে রিহার্সাল করতেও যেতাম। কাকিমা একদম ছোটবেলা থেকে ভীষণ ভালবাসে আমাকে! এখন কাকিমাকে শান্ত করাটাই প্রথম কাজ!”
advertisement
আর এক পরশির ভাষায়, ”খবরটা খুবই আকস্মিক! আজ সকালেও একটা কাজে ওর বাড়ি গিয়েছিলাম। এই কী খবর শুনলাম। ছোটবেলা থেকে ওকে দেখছি। ওর মধ্যে তারকাসুলভ ব্যাপার ছিল না। সহজভাবেই পাড়ার সবার সঙ্গে মিশত। রাহুল খুব ভাল ক্রিকেট খেলত।” জানা গেল, ফ্ল্যাটের সামনের দোকানের মোমো আর রাইস খুব পছন্দের ছিল রাহুলের।
রবিবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজগড়ে ভিড় বাড়তে থাকে। পাড়া-প্রতিবেশী, ফ্যানেদের পাশাপাশি আসতে থাকলেন টলিউডের অনেকেই! সবার প্রথমে, রাত ৯টা নাগাদ আসেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তার পর আসেন দেবলীনা দত্ত, সৌম্য মুখোপাধ্যায়। খানিক বাদে আসেন রাহুলের ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সহকারী পরিচালক অমিত দাস। খবরটা পেয়েই রাহুলের মায়ের কাছে ছুটে আসেন প্রিয়াঙ্কা! কিছু ক্ষণ থেকে চলে যান ছেলে সহজের কাছে। রাত ১১:১৫ নাগাদ তিনি ফের আসেন। রাত ১২:৩০ নাগাদ আসেন সোহিনী সরকার, শোভন গঙ্গোপাধ্যায়। তার কিছু পরেই আসেন সৌরভ দাস ও দর্শনা বণিক। দেখা গেল সঙ্গীতশিল্পী অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কেও। ছুটে আসেন রাহুলের নাটকের দলের বন্ধু অভিষেক!
রাত পেরিয়ে ভোর! রাহুলের স্কুলের বন্ধুরা তমলুকে রওনা হয়েছেন প্রিয় বন্ধুকে আনতে! রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা কলকাতায় রয়েছেন। রাহুলের মা ছেলের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকেই অসুস্থ। রাহুলের দাদা বিদেশে আয়ারল্যান্ডে থাকেন। এখনও পর্যন্ত পরিবারের তরফ থেকে শুধু বন্ধুরাই গিয়েছেন। এখন প্রিয় বাবিনের ফেরার অপেক্ষায় বিজয়গড়!
