জানা যায়, শেষ কয়েকদিন ধরে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’- র শুটিং চলছিল দিঘা সংলগ্ন ওড়িশার তালসারি সৈকতে। রবিবারও সকাল থেকে চলছিল শুটিং। এদিন বিকেল প্রায় ৩টা পর্যন্ত শুটিং চলার পর প্যাক আপ করা হয়। আর এরপরই সকলের নজর এড়িয়ে সমুদ্রের কিছুটা সামনে গিয়ে যান রাহুল। সেখানেই আচমকা তলিয়ে যান তিনি। এরপর রাহুলের সহকর্মীরা বেশ কিছুক্ষণ রাহুলের খোঁজ না পাওয়ায় তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা নাগাদ টেকনিশিয়ানরা রাহুলের দেহ উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে দিঘা রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
advertisement
জনপ্রিয় বেসরকারি টিভি চ্যানেলের একটি সিরিয়ালের শুটিংর পর এই বিপত্তি ঘটে। আর এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন রাহুলের সহ-কলা কুশলীরা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে হুহু করে৷ একই সঙ্গে জলে ভেসে ওঠা রাহুলের নিথর দেহের ছবি লিক হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া, যা শেয়ার হতে থাকে৷ অবশ্যই এই ছবি ছিল মর্মান্তিক৷ এতেই ওঠে নিন্দার ঝড়৷
অভিনেতা ঋদ্ধি সেন লেখেন, মিডিয়ায় যে চেনা মানুষরা আছেন,সাংবাদিক বা চ্যানেলে কি দেখানো হবে সেই সিদ্ধান্ত যারা নেন তাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ,এতটা নিচে নামবেন না ৷ আপনাদের কাছের মানুষ যদি প্রয়াত হতেন, তাহলে তার শবদেহের ছবি ক্যামেরা দিয়ে জুম করে পর্দায় দেখতে আপনাদের কেমন লাগতো ?যিনি চলে গেছেন,তাঁর পরিবার আছে,কাছের মানুষ আছেন,যাদের শোকের ভাষা ফেসবুক বা জনমাধ্যমের মুহূর্তে প্রকাশ করা শোকের ভাষার বাইরে, সেই শোকের ভাষা বা অনুভূতি আমরা শত চেষ্টা করলেও কল্পনা করতে পারবো না,অনুভব করতে পারবো না ৷ TRP’র জন্য ন্যূনতম মনুষ্যত্বের পরিচিতিটুকু জলাঞ্জলি দেবেন না ৷ আপনারা রিপোর্টিং করুন,শুধু যিনি প্রয়াত হয়েছেন তার এবং তার পরিবারের কথা মাথায় রেখে করুন,আপনাদেরও পরিবার আছে,নিজের বাড়ির লোকের মুখগুলো মনে রেখে প্রশ্ন করুন,বক্তব্য রাখুন,ফুটেজ চালান ৷
