প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। দিঘার Dy.SP (D&T) মোহিত মোল্লা বলেন, “দিঘা থেকে ওঁর নিথর দেহ তমলুক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পাঠানো হল ময়নাতদন্তের জন্য। কী কারণে মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।” পুলিশ সূত্রে খবর, শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনায় শোকস্তব্ধ টলিউড মহল। সহকর্মী থেকে অনুরাগী—সবাই স্তব্ধ অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায়। ইতিমধ্যেই অভিনেতার পরিবারের সদস্যরা কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছেন।
advertisement
২০০৮। কমার্শিয়াল ঘরানাকে বদলে দিতে এসেছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। তখন সিঙ্গেল স্ক্রিন। স্কুল কেটে সিনেমা দেখার দিন। পাশের বেঞ্চে ঝারি মারার দিন। ‘পিয়া-রে’ শুনে বহু কিশোর নিজেকে এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক ভাবত। সেই রাহুল আর নেই, এ ভাবনাও যেন ভাবনার বাইরে। সবার মনের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল কৃষ্ণ-পল্লবী। এক গরিব মেকানিক, একটা মফঃস্বল আর কয়েকটা সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনো দু-টো ছেলেমেয়ের সঙ্গে এক হয়ে গিয়েছিল আরও অনেকগুলো জীবন। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দিয়ে টলিউডে সিনে জগতে পদার্পন রাহুলের৷ বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দেওয়া এই ছবির পরিচালক ছিলেন রাজ চক্রবর্তী৷ পরিচালক হিসেবে রাজেরও এটি ছিল প্রথম ছবি৷ তাই বলা যায়, বাংলা সিনেমার জগতে একসঙ্গেই পদাপর্ন করেছিলেন রাহুল এবং রাজ৷ রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছরের এই অভিনেতা। শুটিং চলছিল তালসারিতে। জানা গিয়েছে, জলে নামেন রাহুল অরুণোদয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপত্তি ঘটে। আচমকাই সমুদ্রে তলিয়ে যান তিনি। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করেন। পরে স্পিডবোটের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি।
