রবিবার বিকেলে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়! তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে! ২০১৮ সালে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর ‘বাতায়ন’ পত্রিকায় লেখা তাঁর একটি গল্প। নাম ‘বান্ধবীরা’। ২০১৮ সালে একটি পত্রিকায় রাহুলের লেখা একটি গল্প। নাম বান্ধবী। আজ গল্পটা পড়লে গায়ে কাঁটা দেয়… ‘বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না…’! তবে কি আট বছর আগেই নিজের মৃত্যু আঁচ করতে পেরেছিলেন রাহুল? গল্পে সেই মূল প্রোটাগনিস্ট! তার মৃত্যুর বর্ণনার সঙ্গেও মিলে গেল রাহুলের মৃত্যু! জলে তলিয়েই মৃত্যু হয়েছিল গল্পের নায়কের। বাস্তবেও রাহুলের মৃত্যু সেই একইভাবে! বয়সটাও কমবেশি মিলেই গেল! গল্পের প্রোটাগনিস্টের মৃত্যু হয়েছিল ৪২-এ, রাহুলের মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৪৩।
advertisement
গল্পের শুরুতে রাহুল লিখেছিলেন,
মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার। এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে। পাড়ার দুর্গাপুজোর ভাসান ছিলো। শেষ সিঁড়িটা মিস করেছি। বিয়াল্লিশ তো যাওয়ার বয়স নয়। বেরিয়ে এলাম জল থেকে। শরীর অবশ্য অন্যরা তুলছে। শরীরটা এখন ক্লাবঘরে রাখা।”
কীভাবে মিলে গেল জলে ডুবে মৃত্যুর বর্ণনা, তাও এত নিখুঁতভাবে? কীভাবে নিজের মৃত্যু বর্ণনা আগেই লিখে রেখেছিলেন রাহুল? ৮ বছর আগেই নিজের মৃত্যু দেখতে পেয়েছিলেন রাহুল?
এই প্রসঙ্গে উঠে আসে রাহুলের লেখা গল্পের কথাও। যে গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটক, ‘যে জানাগুলোর আকাশ ছিল’। সৌরভ পালোধির পরিচালনায় সেই গল্পে রয়েছে চার বন্ধু, যার মধ্যে মারা যাচ্ছেন রাহুল, অভিনেতা নিজেই যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
রবিবার তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ের সময় জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। দীর্ঘসময় জলের নীচেই ছিলেন রাহুল। তমলুক হাসপাতাল সূত্রে খবর,ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফুসফুসের ভিতর অত্যাধিক পরিমাণে বালি ও নোনা জল মেলে। রিপোর্টে উল্লেখ, অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে এমন হয় না। কম করে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জলের নীচে ছিলেন বলে ধারণা। রিপোর্টে উল্লেখ, বেশি পরিমাণ বালি ঢুকে যাওয়ায় মৃত্যু। খাদ্যনালির মধ্যেও বালি, নোনা জল মেলে।
সোমবার বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ ছেলে সহজকে সঙ্গে নিয়ে আসেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন সায়নী, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চন্দন সেন ৷ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে হাজির ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়৷
