পর্দার পারমিতার খেদ, তাঁর নিজের পরিশ্রমের ঘাম-রক্তে তিলে তিলে তৈরি করা উত্তরাধিকারের পুরো সাম্রাজ্যটাই ছেড়ে চলে গেলেন রাহুল। সদ্য প্রয়াত অভিনেতাকে স্বপ্নদ্রষ্টা বলে বর্ণনা করে ঋতুপর্ণা বলেন, রাহুল সম্পূর্ণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। উচ্ছল আদর্শ আর ভাবনার মেলবন্ধনে রাহুলের পর্যবেক্ষণ তীক্ষ্ণ। সব সময় নতুন কিছু সৃষ্টি করার জন্য এত উদগ্রীব একজন কেন এভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবেন? কিছুতেই নিজের মনকে বোঝাতে পারছেন না ঋতুপর্ণা।
advertisement
তাঁর কথায়, ‘কোনও পূর্বসূচনা ছাড়াই… কোনও শব্দ নেই, কোনও যন্ত্রণা নেই, কোনও ঘোষণা নেই… আমরা এটা মেনে নেব না রাহুল… তুমি এভাবে চলে যাচ্ছ, এটা আমরা মানতে পারছি না! তোমাকে এতটা নির্দয়ভাবে ছেড়ে যেতে দেখতে পারছি না… কোথায় ছিল সেই যন্ত্রণা রাহুল, কিসের সেই আকুতি? কী ছিল সেই অব্যক্ত নির্মম পরিস্থিতি… কিসের এত তাড়াহুড়ো? তুমি যে অসাধারণ প্রতিভাবান ছিলে… কেন তা এই নিষ্ঠুর জলে বিলীন হয়ে যাবে… কে তোমাকে নিজের বলে দাবি করল? কেন তুমি পাল্টা গর্জন না করেই পরাজিত হবে… তোমার লড়াইটা কোথায় ছিল রাহুল?’
ঋতুপর্ণার উপলব্ধি, জীবনযোদ্ধা রাহুল সব রকমের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। কঠিন মুহূর্তেও কোনওদিন থেমে থাকেননি। শেষ শক্তি সম্বল করে কামানের মতো গর্জে উঠেছেন। সেই রাহুল অরুণোদয়ের অকালে অস্তগামী হয়ে যাওয়া ঋতুপর্ণার কাছে দুর্বোধ্য। তাঁকে হারানো পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, খেদ ঋতুপর্ণার। শুধু অভিনয় প্রতিভাই নয়। রাহুলের ঝকঝকে ব্যক্তিত্বেও মুগ্ধ ঋতুপর্ণা। তাঁর কাছে রাহুল আকাশের তারার মতো, যিনি ভিতর থেকে ছড়িয়ে দেন আলো। ঋতুপর্ণার স্মৃতিচারণ, হাসি-কথা-পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে নিজের উপস্থিতিতে অন্যদেরও আরও উজ্জ্বল করে তুলতেন।
তাঁর বর্ণনায় রাহুলের প্রজ্ঞা নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বল করত। ঋতুপর্ণার পোস্টের মন ছুঁয়ে যাওয়া অংশ-‘তোমার অন্তর্দৃষ্টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রসদ জুগিয়েছে… তোমার ইতিবাচকতা অন্যদের সহানুভূতিশীল করে তুলেছে… তোমার ব্যক্তিত্বের অদম্য শক্তি অন্যদের ক্ষমতায়িত করেছে… কোথায় হারিয়ে গেলে তুমি, রাহুল… আমাদের সবাইকে হতাশায় তোমার খোঁজে রেখে?’
দিকশূন্যপুরে পাড়ি দেওয়া রাহুলের কাছে ঋতুপর্ণার প্রশ্ন, ‘জীবন থেকে পুরোপুরি সরে গেলে?’ এই শূন্যতা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রীর খেদ, তাঁদের রিক্ত করে, সম্পূর্ণ অসহায় করে চলে গিয়েছেন রাহুল। দিয়ে গিয়েছেন এমন ক্ষত, যার কোনওদিন কখনও উপশম হবে না।
