কলকাতার কাছাকাছি কোথাও শ্যুটিং থাকলে রাহুলের সঙ্গেই থাকতেন গাড়িচালক বাবলু দাস৷ চোখের সামনে অভিনেতার এই মর্মান্তিক পরিণতি যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বাবলু৷ সোমবার তমলুক হাসপাতালে তিনি জানান, রবিবার ভোর থেকেই তালসারির সমুদ্র সৈকতে জনপ্রিয় ওই বাংলা সিরিয়ালের শ্যুটিং শুরু হয়৷ বিকেল দিকে যে সময় দুর্ঘটনা ঘটে তখন শ্যুটিং প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ বাবলু কথায়, শ্যুটিং প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল৷ ওটাই শেষ দৃশ্য ছিল৷ অভিনেতার গাড়ির চালক জানিয়েছেন, জল থেকে উদ্ধারের পর অভিনেতার মুখ দিয়ে জল বের করার চেষ্টাও করা হয়৷ বাবলু বলেন, ‘দাদাকে জল থেকে তোলার পর সমুদ্রে পাড়ে নিয়ে এসে শরীরে ঢুকে যাওয়া জল বের করার চেষ্টাও হয়েছিল৷ কিছুটা জলও বেরোয়৷ তখনও নিঃশ্বাস চলছিল৷ কিন্তু হাসপাতালে যখন নিয়ে আসা হল, তখন সব শেষ৷’
advertisement
২০০৮। কমার্শিয়াল ঘরানাকে বদলে দিতে এসেছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। সবার মনের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল কৃষ্ণ-পল্লবী। এক গরিব মেকানিক, একটা মফঃস্বল আর কয়েকটা সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনো দু-টো ছেলেমেয়ের সঙ্গে এক হয়ে গিয়েছিল আরও অনেকগুলো জীবন। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সেই গ্যারাজের দৃশ্য গুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। একজন অনামী পরিচালক, দুজন অনামী নায়ক-নায়িকা, তবুও ব্লকব্লাস্টার। ঠিক কী ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ? প্রশ্নের একটাই উত্তর বাঙালির আবেগ ছিল। দুটো ছেলেমেয়ের প্রেম ছিল। আর ছিল সাবলীল অভিনয়। মেকানিক রাহুলের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিল প্রতিটি মফস্বলে থাকা ছেলের জীবন, যাঁদের ভালবাসার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই।
