৬৮ বছর বয়সি জ্যোতিষ দেবনাথ আজও বাংলার প্রাচীন তাঁতশিল্পের ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিষ্ঠা ও শ্রমের মাধ্যমে। পারিবারিক সূত্রেই এই পেশায় তাঁর হাতেখড়ি। দাদু দেবেন্দ্রমোহন দেবনাথ ছিলেন বাংলাদেশের নোয়াখালির বাসিন্দা। দেশভাগের পর পরিবার নিয়ে কালনা-২ ব্লকের দত্তদ্বারিয়াটন গ্রামে চলে আসেন। কালনার মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনার পর বাবার কাছেই শুরু হয় তাঁতের শিক্ষা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁর তৈরি শাড়ি রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। এর আগেও তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
advertisement
জ্যোতিষ দেবনাথের স্ত্রী যূথিকা দেবনাথ বলেন, ” ৪৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে আমিও তাঁত বোনার কাজ শিখেছি। আমাদের একমাত্র ছেলে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। শ্বশুরমশাইকে লোকে সম্রাট বলেই চিনত। আজ আমার স্বামী পদ্মশ্রী পাচ্ছেন, এটা আমাদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।”
অন্যদিকে, ৭৭ বছর বয়সি রবিলাল টুডু ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও নাটকের সঙ্গে যুক্ত। প্রাথমিক পড়াশোনা স্থানীয় নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে, পরে বাদলা হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে পিওর সায়েন্সে স্নাতক হন। কর্মজীবনে প্রথমে এজি বেঙ্গল এবং পরে ব্যাঙ্কে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরি করে অবসর গ্রহণের পর পুরোপুরি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। ১৯৭৭ সালে বিরসা মুন্ডাকে কেন্দ্র করে লেখা তাঁর মৌলিক নাটক ‘বীর বিরসা’ তাঁকে রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় পরিচিতি এনে দেয়। সাঁওতালি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর সাতটি বই রয়েছে। এখনও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ২২টি পাণ্ডুলিপি। এর আগেও তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার এবং ২০২২ সালে বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। রবিলাল টুডু বলেন, ” এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটা আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বড় প্রাপ্তি।” একই বছরে শিল্প ও সাহিত্যে কালনার দু’জনের পদ্মশ্রী প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে গোটা এলাকার জন্যই এক স্মরণীয় দিন।






