ফলে দিন কয়েক ধরেই নেটদুনিয়া এই জল্পনাতেই উত্তাল ছিল। এ নিয়ে প্রথমদিকে কিছু না বললেও এবার সমস্তটা স্পষ্ট করে দিলেন নীনা। জানান যে, ৬৬ বছর বয়সে তিনি সন্তানসম্ভবা নন। আসলে অনেকেই অভিনেত্রীর ‘বাধাই হো’ ছবিরও উদাহরণ টানছিলেন। সেই উদাহরণ টেনেই নিজের চিরাচরিত মজার ভঙ্গিতে তিনি বলিউড হাঙ্গামা-র কাছে বলেন যে, “আমার এটুকুই দরকার, বাস্তব জীবনের ‘বাধাই হো’।”
advertisement
পুরো বিষয়টা পরিষ্কার করে নীনা বলেন যে, “কোনও ‘বাধাই হো’ হয়নি। আমি অন্তঃসত্ত্বা নই। আসলে আমার শাড়ির মেটেরিয়ালটা এতটাই মোটা ছিল যে, ওই অনুষ্ঠানে আমাকে মোটাসোটা দেখাচ্ছিল।” এরপর তিনি আরও বলেন যে, “তবে আমি এটুকুই বলতে চাই যে, এই বয়সে আমার প্রেগন্যান্সি নিয়ে যেসব জল্পনা করা হয়েছে, সেটা আমার খুবই ভাল লেগেছে। এই বিষয়টা এটাই প্রমাণ করে যে, আমরা একটা দেশ ও জাতি হিসেবে উন্নত হচ্ছি।”
এমনিতে হামেশাই চর্চা এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন নীনা গুপ্তা। আসলে বেশিরভাগ সময় স্রোতের প্রতিকূলেই বয়েছে নীনার জীবন। ফলে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম চর্চিত অভিনেত্রী তিনি। শুধু কেরিয়ারে সেরা অভিনয়ের জন্যই নয়, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তের জন্যও আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন। আশির দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে নীনার সম্পর্ক নিয়ে কম চর্চা হয়নি। আসলে বিয়ে না হলেও সেই সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন নীনা। আর ওই সময় ভারতের মতো দেশে এই বিষয়টা ছিল একটা ট্যাবু। তবে নিজের সেই সন্তানকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। শুধু তা-ই নয়, সেই সময় নিজের মতো স্বাধীন ভাবেই বড় করেছিলেন সন্তানকে। আজ তাঁর সেই কন্যা মাসাবা গুপ্তা নামজাদা ফ্যাশন ডিজাইনার।
তবে সেই পথটা একেবারেই সহজ ছিল না তাঁর জন্য সমাজের সমস্ত রকম নিন্দা-কটুক্তিকে সয়ে নিজের দাপটেই সিঙ্গেল মাদার হিসেবে কন্যাকে একা হাতে মানুষ করেছেন নীনা। আর নিজের অভিনয়ের কেরিয়ার এবং সন্তানকে বড় করা – সমস্তটা নিজেকেই করতে হয়েছে। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন দিনগুলির কথাই তুলে ধরেছেন নীনা। যদিও অনেক পরে অবশ্য অভিনেত্রীর জীবনে সুখ আসে। ২০০৮ সালে দিল্লির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক মেহরার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন তিনি।
