পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়ম করে চলতে থাকে তার রেওয়াজ। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সময় দিত গানের চর্চায়। শিক্ষকরা বলেন, ‘‘স্বর্ণাভ খুব মনোযোগী। নতুন গান খুব দ্রুত শিখে নিতে পারে। তার কণ্ঠে আছে স্বচ্ছতা আর আবেগ। ধীরে ধীরে স্থানীয় অনুষ্ঠানগুলোতে গান গাওয়ার সুযোগ পায় সে। গ্রামের মঞ্চে প্রথম গান গেয়ে সকলকে চমকে দেয়। দর্শকরা তখনই বুঝেছিলেন, এই ছেলের মধ্যে বড় কিছু করার ক্ষমতা আছে। এরপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ডাক আসতে থাকে। দুই মেদিনীপুরের নানা প্রান্তে সে গান গেয়েছে। প্রতিটি মঞ্চেই পেয়েছে উষ্ণ অভ্যর্থনা।’’
advertisement
এর পর আসে বড় সুযোগ। বাংলা এক টেলিভিশন চ্যানেল থেকে ডাকা হয় তাকে। জনপ্রিয় গানের রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নেয় স্বর্ণাভ। অডিশন পর্বেই বিচারকদের মন জয় করে সে। তার কণ্ঠের শক্তি ও সুরের নিখুঁত ব্যবহার সকলকে মুগ্ধ করে। ধাপে ধাপে কঠিন প্রতিযোগিতা পার করে এগিয়ে যায় সে। একের পর এক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিছনে ফেলে জায়গা করে নেয় সেরাদের তালিকায়। অবশেষে শোয়ের মঞ্চে সুপারস্টার হিসেবে উঠে আসে তার নাম। সারা বাংলার দর্শক তাকে চিনে নেয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার গানের ভিডিও। মুহূর্তেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সে।
এখন স্বর্ণাভ শুধু গ্রামের নয়, জেলার গর্ব। দুই মেদিনীপুর ছাড়িয়ে কলকাতার বড় বড় মঞ্চেও গান গাইছে সে। তার কণ্ঠে যেন এক আলাদা জাদু আছে। মঞ্চে উঠলেই দর্শক আসন থেকে ভেসে আসে করতালি। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের বড় শিল্পী হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন : আইআইটি খড়গপুরের মুকুটে নতুন পালক, আন্তর্জাতিক পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন অধ্যাপক সপ্তর্ষি ঘোষ
শিক্ষক ও অভিভাবকেরা বলছেন, নিয়মিত চর্চা আর সঠিক দিক নির্দেশনাই তার সাফল্যের চাবিকাঠি। এত কম বয়সে এমন সাফল্য সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। স্বর্ণাভ মহাপাত্র প্রমাণ করেছে, প্রতিভা আর পরিশ্রম থাকলে ছোট বয়স কোনও বাধা নয়। তার স্বপ্ন আরও বড়। আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছে পটাশপুরের এই খুদে সুপারস্টার।