ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী বর্ষা। তার প্রিয় বিষয় বাংলা হলেও ভৌত বিজ্ঞান তাকে কিছুটা কঠিন মনে হয়। তবে সেই দুর্বলতাকেই শক্তিতে পরিণত করতে সে ভৌত বিজ্ঞানের ওপর বেশি জোর দিয়ে পড়াশোনা করছে। নিয়মিত গৃহ শিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সর্বতোভাবে সাহায্য করে চলেছেন।
advertisement
৬৮ তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে সম্মানিত দলাই লামা! ঝুলিতে এবার নয়া প্রাপ্তি
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও বর্ষা এবছর অন্য কোনও রাইটার ছাড়াই নিজে হাতে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার হাতের লেখা এতটাই সুন্দর ও স্পষ্ট যে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকেও হার মানায়। পড়াশোনার প্রতি তার একাগ্রতা ও আত্মবিশ্বাস সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি বর্ষা আঁকা শেখে এবং নিয়মিত নাচের অনুশীলন করে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নাচে সাফল্য অর্জন করেছে সে। অঙ্কন শিক্ষাতেও একাধিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে।
বর্ষার বাবা মনোজিৎ শর্মা জানান, জন্মের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই শারীরিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তার অবস্থার উন্নতি হতে পারে। বর্তমানে বর্ষা আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী।
ভবিষ্যতে সমাজসেবামূলক কাজ করার পাশাপাশি ব্যাংকের চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। রাজ্য সরকার বিভিন্নভাবে পাশে দাঁড়ানোয় তার পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনও বর্ষার অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম আজ সমাজের সামনে এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। তার বিদ্যালয়ে রাধারানী নারী শিক্ষা মন্দিরের শিক্ষিকা গণ সকল ছাত্রীর শুভকামনা রাখার সাথে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন তাকে।