পূর্ব বর্ধমান জেলার রসুলপুরের সাহানুই গ্রামের অনন্যা কোলে। ছোট থেকেই যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন তিনি। তার দাদুই তার অনুপ্রেরণা। দশম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করেছেন বৈদ্যনাথ গার্লস হাই স্কুলে ও উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছেন রসুলপুর বিএম হাই স্কুল থেকে। তারপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। স্নাতক স্তরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়েছিলেন তিনি এবং স্নাতকোত্তরেও পেয়েছিলেন ৮০ শতাংশ নম্বর। বর্তমানে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে দর্শনে পিএইচডি করছেন অনন্যা।
advertisement
সপ্তাহে এক দিন শুধু এটা করলেই ঘরের মেঝে ঝকঝকে হবে নতুনের মতো, বছরের পুরনো ময়লাও উধাও!
তবে এটাই প্রথম নয় এর আগেও তিনি তিনবার নেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন।কিন্তু বারবারই পিছিয়ে আসতে হয়েছিল তাকে। অনন্যা কোলে বলেন, প্রথমবার ঠিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করার কয়েক মাসের মধ্যেই আমি পিএইচডি করার সুযোগ পেয়ে যাই তাই সেভাবে প্রস্তুত হতে পারিনি। দ্বিতীয়বার যখন পরীক্ষায় বসে সে বছর পরীক্ষার হলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।আর তৃতীয় বছরে একটি প্রশ্নের জন্য সফল হতে পারেনি সেই থেকেই ঠিক করেছিলাম প্রথম হব। ১৮ বছর বয়সে আমার গলব্লাডার অপারেশন হয় ফলে হজমে সমস্যা রয়েছে এছাড়া স্পন্ডেলাইটিস ও কোমরে ব্যথার সমস্যা রয়েছে।
ভাজার আগে গরম তেলে দিন জাস্ট এক চিমটে ‘ম্যাজিক’! পাতে উঠবে ফুলকো, ঝরঝরে সুগন্ধী লুচি!
ডাক্তার বলে দিয়েছিলেন বেশিক্ষণ একটানা না বসে থাকার জন্য কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল প্রথম হওয়া তাই সেভাবেই শুরু করি প্রস্তুতি। পিএইচডির সূত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কোর্সওয়ার্কের সময়ের বাইরে শুধু পড়াশুনা করেছি ছয় মাস। এমনকি এই ছয় মাস আমি বাড়িও যাইনি। ইউনিভার্সিটি না থাকলে চেষ্টা করেছি ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা পড়ার। আর যেদিন ইউনিভার্সিটি থাকত সেদিন ফিরে এসে যতটা সময় পেতাম পড়াশোনা করতাম। এই বিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন আমার সিনিয়ররা ও প্রফেসররা।
আজ শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে ও বারবার হার থেকে শিক্ষা নিয়েই তিনি ইউজিসি নেট (ডিসেম্বর ২০২৫) পরীক্ষায় দর্শন বিষয়ে সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ৩০০-র মধ্যে পেয়েছেন ২৪০। ফলে জিআরএফ ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ইন্টারভিউ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন অনন্যা আর তারে সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার থেকে গ্রামের সকলে। তিনি বলেন, ছোট থেকে যৌথ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা। পরিবারে ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। বাবা বাসুদেব কোলে বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ও মা অতসী কোলে গৃহবধু। আমার দাদা রয়েছে। তারা সকলেই খুব খুশি। আর পড়াশোনার ক্ষেত্রে বরাবরই পরিবারের সকলকে পাশে পেয়েছি। কখনই তারা কোন কিছুর জন্য জোর করেননি। বরং মাঝে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম তখন তারা আমার শারীরিক কথা চিন্তা করে বলেছিলেন পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম প্রথম হবই। একটা কথায় মাথায় রেখেছিলাম বাবার যেটা বলেন, কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প হয় না। সেটা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আর যারা নেট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলব, নেগেটিভিটিকে দূরে রেখে সব সময় পজিটিভ থাকা আর আমাকে আমার প্রফেসর যেটা বলেছিলেন, যেটা আমি জানি না আমাকে জেনে নিতে হবে আর যেটা আমি জানি সেটা আরও ভালোভাবে জানতে হবে। কারও যদি প্রথমবারেই হয়ে যায় তাহলে খুব ভালো কথা কিন্তু যদি না হয় তাহলে প্রতিবার হারের পর দেখতে হবে কোন জায়গাটায় আমার খামতি ছিল, কোন জায়গাটায় আমার হয়নি। হচ্ছে না বলে হাল ছাড়লে হবে না।
আমার কোনটা প্রথম দরকার সেটা বোঝা সবার আগে প্রয়োজন। জিআরএফ সবারই প্রয়োজন কারণ এটা হলে একটা স্টাইপেন সবারই দরকার। এর সঙ্গে সঙ্গে যাদের মনে হয় আমার পিএইচডি পাওয়া আগে দরকার তাদের সেই দিক থেকে আগে নজর দেওয়া উচিত, যেটা আমি করেছিলাম। কারন আমার মনে হয়েছিল আগে পিএইচডিটা পেয়ে গেলে আমি একটা দিক থেকে নিশ্চিন্ত হতাম যে আমি পিএইচডিটা করছি। তারপর আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম জিআরএফ করব বলে। তাই বলব যার যেটা লক্ষ্য সেটা দেখতে হবে অন্য একি করছে দেখে লাভ নেই। আর একটাই কথা নিজেকে প্রচন্ড পজিটিভ রাখতে হবে। যে যেটা ভাল জানে সে আমার থেকে ছোট হোক বা বড় তার কাছ থেকে সেটা জেনে নেওয়া উচিত। এটা আমিও করেছি।
