যদিও ভূগোল পরীক্ষায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে, তবে অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা সে স্বাভাবিক ও সুস্থভাবেই দিতে পেরেছে। পার্থর বাবা উত্তম দে জানান, সাত বছর বয়সেই একটি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ছেলে। সেই রোগ ছিল ক্যানসারের আগের স্তরের একটি জটিল ব্যাধি। তখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল পার্থকে। এক মাসে প্রায় ৭০০টি ইনজেকশন নিতে হয়েছিল তাকে। সেই সময় থেকেই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে তার। বর্তমানে সে অনেকটাই সুস্থ হলেও এখনও নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
advertisement
পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ বহন করাও এখন তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তম দে পেশায় একজন মুদিখানা দোকানি। সংসারে একমাত্র সন্তান পার্থই তাদের ভরসা। পরিবারটি শান্তিপুরের নতুনহাট এলাকায় বসবাস করে।
পার্থ আগে শান্তিপুর মুসলিম হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছে। এবছর তার মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে মালঞ্চ হাই স্কুলে। পড়াশোনার পাশাপাশি, খেলাধূলাতেও তার আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেট খেলতে সে খুব ভালবাসে। বুধবার ভৌত বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়েছে পার্থ। এরপর জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়েই শেষ হবে তার এবছরের মাধ্যমিক যাত্রা। অসুস্থতা ও অভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করেও যেভাবে সে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার। তার এই সংগ্রামী জীবনের গল্প সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।





