ঘটনাটি ঘটেছে খড়গপুর সাউথ সাইড বয়েজ হাইস্কুলে। জানা গিয়েছে, ওই পড়ুয়া নবম শ্রেণির পর স্কুলে আর যায়নি। ফলে তার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপও হয়নি, হাতে পায়নি কোনও অ্যাডমিট কার্ড। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসার লোভ সামলাতে না পেরে সে নিজেই ফটোশপের সাহায্যে একটি অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করে ফেলে। সেই ভুয়ো অ্যাডমিট নিয়েই নির্দ্বিধায় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে সে। যদিও এই ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকা শিক্ষকেরা।
advertisement
পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সময় অ্যাডমিট যাচাই করতে গিয়েই পরীক্ষকদের সন্দেহ হয়। খুঁটিয়ে দেখতেই ধরা পড়ে যায় যে অ্যাডমিটটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জানানো হয় মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা কনভেনরকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ।
ওই পড়ুয়াকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা কনভেনর সুভাষ হাজরা জানান, ‘ফেক অ্যাডমিট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতেই পরীক্ষকরা ধরে ফেলেন। অ্যাডমিটটি একেবারেই ভুয়ো, নিজের তৈরি। পরে পুলিশকে জানান হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনকার ছোট ছোট পড়ুয়ারা সোশ্যাল মিডিয়া দেখে অনেক কিছু শিখছে। বাবা-মায়েদের আরও বেশি করে সচেতন হওয়া দরকার।’ এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এত কম বয়সে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পেল ওই পড়ুয়া। আবার অনেক অভিভাবকের মতে, পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যতের ভয় এবং সচেতনতার অভাব থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধুমাত্র শাস্তি নয়, এই ধরনের ঘটনার পিছনের মানসিক দিকটিও বোঝা জরুরি। পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং পরীক্ষাকে জীবনের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে না দেখার মানসিকতা গড়ে তোলাই হতে পারে এমন ঘটনার প্রতিরোধের একমাত্র পথ।






