পরীক্ষা চলাকালীন বিশেষ পদ্ধতিতে ভূমিকা উত্তর দিচ্ছে। দুই রাইটারের মধ্যে একজন প্রশ্নপত্র পড়ে শোনাচ্ছে, আর ভূমিকা যা মুখে বলে দিচ্ছে, তা হুবহু খাতায় লিখে দিচ্ছে অপর রাইটার। রমা ও শুভশ্রীর চোখ দিয়েই বাস্তব রূপ পাচ্ছে ভূমিকার জ্ঞান। ইতিহাস যেন কান দিয়ে শোনা হয়ে চোখের লেখায় ধরা পড়ছে।
advertisement
ভূমিকার মা দেবশ্রী বিশ্বাস জানান, তিন কন্যার মধ্যে ভূমিকা সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই সে সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরাই মানবিক উদ্যোগে দুই ছাত্রীকে রাইটার হিসেবে ঠিক করে দেন।
যদিও এ বিষয়ে নদিয়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সূত্র মারফত জানা যায়, সাধারণত একজন বিশেষভাবে সক্ষম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর একজন মাত্র রাইটার নিয়ে যাওয়ারই অনুমতি রয়েছে তবে এক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কারণে মানবিক দিক থেকে বিচার করে একজনের জায়গায় দু’জন পরীক্ষার্থী নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় কারণ যারা রাইটার হিসেবে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে তারা নিজেরাও বয়সে অনেকটাই ছোট। অসুবিধা যাতে পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদেরও না হয় সেই দিকেও অনেক সময় নজর রাখা হয়ে থাকে।
দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকলেও সেই সুযোগ মূলত শহরকেন্দ্রিক। গ্রাম বা মফস্বলে ব্লাইন্ড স্কুলের অভাব প্রকট। শান্তিপুর এলাকাতেও এমন কোনও বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্র নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। ফলে ভূমিকার মতো বহু দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীকে এখনও শ্রুতিনির্ভর পড়াশোনার ওপরেই ভরসা করতে হচ্ছে। সমস্ত সীমাবদ্ধতার মাঝেও ভূমিকা বিশ্বাসের এই লড়াই সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকল।