একাদশ–দ্বাদশ স্তরে এডুকেশন পড়লে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার মনস্তাত্ত্বিক দিক, সামাজিক প্রভাব, ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং দর্শনভিত্তিক ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়। মানুষ কীভাবে শেখে, শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ কী ভাবে বদলায়, শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা—এই সব প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর খোঁজার সুযোগ মেলে এই বিষয়ের মাধ্যমে। ফলে যারা সমাজ, মানুষ ও নীতিনির্ধারণের জগৎকে কাছ থেকে বুঝতে চায়, তাদের জন্য এডুকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে দেয়।
advertisement
বন্দে ভারত স্লিপার কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে? কত ভাড়া? পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় বড় সংযোজন
তেলে ভরপুর ভেনেজুয়েলা, তবু মুদ্রা এত দুর্বল কেন? জেনে নিন, সেখানে ১০ হাজার ভারতীয় টাকার মূল্য কত?
বর্তমান সময়ে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই বা বিদ্যালয়-কেন্দ্রিক নয়। শিক্ষানীতি, প্রশাসন, প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং, গবেষণা এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষার নিবিড় যোগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই একাদশ–দ্বাদশ স্তরে এডুকেশন নিয়ে পড়াশোনা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নানা পথ খুলে দিতে পারে। তবে এই বিষয়ে পড়াশোনা করলে ঠিক কী ধরনের উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে, শিক্ষকতার বাইরে আর কোন কোন ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়া যায়—এসব প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে। সেই দিকগুলিই স্পষ্ট করে বোঝার জন্য এডুকেশন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।
একাদশ–দ্বাদশ স্তরে যাঁরা এডুকেশন নিয়ে পড়েছেন, তাঁদের সামনে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির একাধিক পথ খোলা থাকে। বিষয়টি অনেকের কাছেই কম চর্চিত হলেও, বাস্তবে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব যথেষ্ট।
দশমের পর কলা, বিজ্ঞান বা বাণিজ্য বিভাগের পাশাপাশি এডুকেশন একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে একাদশ–দ্বাদশে পড়ানো হয়। এই স্তরে শিক্ষা বিষয়ের পাঠ্যক্রমে শিক্ষা-মনস্তত্ত্ব, সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, দর্শন, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো এবং শেখানো–শেখার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়। ফলে ছাত্রছাত্রীরা সমাজ ও মানুষের মানসিক বিকাশকে শিক্ষার আলোকে বুঝতে শেখে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট করে জানা জরুরি। এডুকেশন বিষয়ে স্নাতক স্তরের ডিগ্রির নামও ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, আবার শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের জন্য যে ডিগ্রি করতে হয়, সেটির নামও বিএড। নাম একই হলেও এই দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা। এডুকেশন বিষয়ে স্নাতকে মূলত শিক্ষাতত্ত্ব, পাঠ্যক্রম নির্মাণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষাদর্শ, শিক্ষা-মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক দিকগুলি পড়ানো হয়। অন্যদিকে, শিক্ষকতার বিএড মূলত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের উপর নির্ভরশীল।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের একাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এডুকেশন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, স্নাতকোত্তরের পর গবেষণা স্তরেও এই বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা করা যায়।
