সারা দেশের সঙ্গে উত্তর দিনাজপুরেও (North Dinajpur) করোনার থাবা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। করোনা সংক্রমন ভয়াবহ আকার সাধারন মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি (Coronavirus Guideline) মানছেন না। প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করতে একাধিক কর্মসূচী পালন করলেও আমজনতা সে বিষয়ে গুরুত্বই দিচ্ছেন না। ইসলামপুরের (Islampur) বাসিন্দা বাপন দাস তাই এবারে উদ্যোগী। বাপন দাস রাজ্য পুলিশে কর্মরত। কলকাতায় বাস। পুলিশের চাকরি করলেও দুঃস্থ অসহায় মানুষের পাশে তাঁকে সব সময় পাওয়া যায়। সুযোগ পেলেই মাতৃভূমি ইসলামপুরে এসে তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজে যুক্ত হন।
advertisement
গতবছর লকডাউনের (Lockdown) সময় নিজের বেতনের টাকা দিয়ে দুঃস্থ অসহায় মানুষদের জন্য খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের এই কর্মী। আবার করোনা সংক্রামনের দেশ জুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইসলামপুরের বাড়ি ফিরে দেখেন এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল নয়। তাই করোনা সংক্রমণের মারাত্বক পরিস্থিতি বোঝাতে যমরাজ রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। যমরাজকে মানুষ কিছুটা হলেও ভয়ের চোখে দেখেন। বাপনের কথায় মানুষের শিক্ষা দু'ভাবে হতে পারে। একদল দেখে শেখে, একদল ঠেকে শেখে। মানুষকে শিক্ষা দিতে বাপন দাস এই তীব্র গরমের মধ্যেও যমরাজ সেজে মানুষের কাছে হাজির হচ্ছেন। তাঁর হাতে থাকছে মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং সাবান। যে সমস্ত মানুষ মাস্ক ছাড়া ঘর থেকে বেরোচ্ছেন, তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। প্রথমে তাঁকে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুরোধ করছেন। একইসঙ্গে তাঁদের হাতে করোনা প্রতিরোধের সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।
বাপন দাসের দাবি, সাধারন মানুষকে করোনা সংক্রামন সম্পর্কে সচেতন করতেই তার এই উদ্যোগ। সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি যেভাবে মানুষকে সচেতনতার কাজে নেমেছে তার জন্য তাঁকে স্যালুট করেছেন ইসলামপুরের বাসিন্দা অনির্বান দাস। অর্নিবানবাবু জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে ভালভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলে মানুষ সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। যমরাজ সম্পর্কে মানুষের ভীতি আছে। বাপন দাস সেই যমরাজ রূপেই মানুষের সামনে হাজির হচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগে মানুষ কিছুটা সচেতন হলেও আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়তে পারব।
Uttam Paul
