কখনও কখনও আবার কলকাতায় চলে যেতেন তিনি তাঁর নেতার সঙ্গে দেখা করতে। এমনকি মাঝেমধ্যে মঞ্চে উঠে পড়তেন সমীর। নিজের একলা জীবনে, একলা একটা এক কামরার ঘরে, মুকুল রায়ের একটি বড় ছবি ছাড়া সেরকম কিছু সম্বল তাঁর নেই। সেই কারণে মুকুল রায়ের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে মুকুল প্রয়াণে তাঁরই স্মৃতি আঁকড়ে সমীর। কখনও সাইকেল তো কখনও মোটরসাইকেল। কখনও তৃণমূল কংগ্রেস তো কখনও ভারতীয় জনতা পার্টি। ‘দাদা’ দল বদলালেও, মুকুল রায়ের প্রতি সমীরের ভালবাসা বরাবরই ছিল একইরকম।
advertisement
একবার কলকাতা গিয়ে দেখে আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি। বাঁকুড়াতে বসেই করলেন স্মৃতিচারণ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমীর দত্ত দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে তেমনভাবে সক্রিয় না থাকলেও মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ অটুট ছিল। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সমীরের কথায়, “ওঁর মতো মানুষ আর হয় না, নেতা হিসেবেও বড় ছিলেন, একেবারে চাণক্য। মানুষ হিসেবেও আরও বড়।”
প্রয়াত নেতার স্মৃতিতে এখন প্রায় সারাদিনটাই তাঁর ছবির সামনে বসে সমীর। প্রতিবেশীরা বলছেন, সমীরের এই আবেগই প্রমাণ করে রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে এক নেতা ও তাঁর অনুগামীর মধ্যে। বাঁকুড়ার এক কোণে বসে এক সাধারণ মানুষের চোখের জলে ফুটে উঠছে এক নেতার প্রতি তাঁর প্রিয় অনুগামীর অমলিন অবিচল শ্রদ্ধা ও ভালবাসার গল্প।
নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়





