উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির (বিদ্যাসাগর হল) প্রাঙ্গণে ‘তৃতীয় মেদিনীপুর আঞ্চলিক সৃষ্টিশ্রী মেলা’-র উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের দিন রাজ্যের মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া জানিয়েছিলেন, এবছর মেলার বেচাকেনার লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি টাকা। তবে সেই লক্ষ্যমাত্রাকেও বহু পিছনে ফেলে এবছর মেলার মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা।
advertisement
আরও পড়ুন: ধূপগুড়ি হাসপাতালে ইতিহাসের সূচনা! চালু হল সিজারিয়ান পরিষেবা, খুশির হাওয়া চা বাগান-বনবস্তিতে
১৯ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১০ দিন ধরে চলা এই মেলায় পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের মোট ১২টি জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অংশগ্রহণ করেন। নিজেদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পের পসরা সাজিয়ে তাঁরা মেলায় বসেছিলেন। পাশাপাশি কেরল, রাজস্থান, হরিয়ানা, কাশ্মীর ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য থেকেও হস্তশিল্পীরা এসে মেলায় অংশ নেন। এবছর মেলায় মোট ২২০টি স্টল ছিল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মেলায় মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী পটশিল্প, মাদুর, পাটজাত দ্রব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কারুকার্য করা শাড়ি, বাঁশের তৈরি সামগ্রী, গয়না ও হস্তশিল্পজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। উদ্যোক্তাদের দাবি, বিশেষ করে স্থানীয় হস্তশিল্পের স্টলগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে খাবারের স্টলগুলিতেও প্রতিদিন রেকর্ড ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ মেলায় ভিড় জমিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দু’কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে। অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট মিশন ডিরেক্টর গোবিন্দ হালদার জানান, “এবার মেলা শুরুর আগেই স্টলদাতাদের পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা হয়েছিল। বিক্রির নিরিখে প্রতি বিভাগে প্রথম তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।”
ঘাটাল থেকে আসা পদ্মাবতী মণ্ডল অধিকারী ও দাসপুরের অঞ্জলি পণ্ডিত জানান, “এবার বিক্রি এতটাই ভাল হয়েছে যে মেলার মাঝপথেই মাল শেষ হয়ে গিয়েছিল, পরে আবার নতুন করে মাল আনাতে হয়েছে।” সব মিলিয়ে, এবছরের সৃষ্টিশ্রী মেলা শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আর্থিক স্বাবলম্বনের ক্ষেত্রেও এক বড় সাফল্যের দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।






