চাষের জমি থেকে আখ কেটে এনে প্রথমে তা রস পেষাইয়ের মেশিনে দেওয়া হয়। মেশিনের মাধ্যমে আখ পিষে বের করা হয় রস। এরপর বড় কড়াইয়ে আগুন জ্বালিয়ে সেই আখের রস দীর্ঘক্ষণ ফোটানো হয়। ধীরে ধীরে রস ঘন হয়ে চিটালো আকার নিলে তা নামিয়ে রাখা হয় বিশেষ মাটির পাত্রে। ঠান্ডা হলে সেই রসই পরিণত হয় সুস্বাদু আখের গুড়ে। এই গুড় শুধু জেলাতেই নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশাতেও বিক্রি হয় বলে জানান চাষিরা।
advertisement
চাষিদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ থেকে শুরু করে পেষাই পর্যন্ত মোট খরচ পড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সার, ওষুধ, শ্রমিক মজুরি-সহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘা জমি থেকে আয় হয় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। বাড়ি থেকে খুচরো এবং পাইকারি ধরে বিক্রি হচ্ছে। কেশিয়াড়ি ব্লকের দীপা, বেনাডিহা, কুলবনি-সহ সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী একাধিক গ্রামে আখের গুড় প্রস্তুত করেন কৃষকেরা। ধান চাষের জমিতে আখের চাষ, আখের গুড় উৎপাদন অনেক কৃষকের কাছেই লাভজনক হয়ে উঠেছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে সম্প্রতি নদী তীরবর্তী এলাকায় বারবার হাতির হানায় আখ চাষে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বহু চাষিই ক্ষতির আশঙ্কায় নদীর ধারে আখ চাষ কমিয়েছেন। তবুও ধান চাষের জমিতে আখ লাগিয়ে এবং তা থেকে গুড় তৈরি করে লাভের মুখ দেখছেন অনেক কৃষক। সব মিলিয়ে, শীতের মরশুমে জঙ্গলমহলের আখের গুড় শুধু স্বাদের নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।





